মেইন ম্যেনু

শেখ হাসিনার ভারত সফর : ‘ব্লু ইকোনমি’তে নজর নয়াদিল্লির

বঙ্গোপসাগরে পারস্পরিক সহযোগিতা, ব্লু ইকোনমি (সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি) আহরণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ রোডম্যাপ উন্মোচন হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সামুদ্রিক সম্পদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ব্লু ইকোনমি’নির্ভর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টার মাঝেই বঙ্গোপসাগরের ‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে ওই রোডম্যাপ উন্মোচন হতে পারে।

আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ হাসিনার ভারত সফরে প্রতিবেশী এ দুই দেশের মাঝে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উপস্থিতি ঠেকাতে এবং বঙ্গোপসাগরের সাধারণ সামুদ্রিক অঞ্চলে শান্তি রক্ষায় সহায়তা করবে এ চুক্তি। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভারতের জাতীয় দৈনিক দ্য ইকোনমিক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক বিশেষজ্ঞ বলেন, বঙ্গোপসাগরের ব্লু ইকোনমিতে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বঙ্গোপসাগরের কমন সমুদ্র এলাকায় ব্লু ইকোনমির নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহার শান্তিপূর্ণ রাখা উভয় দেশের যৌথ দায়িত্ব।

‘ব্লু ইকোনমি সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথ রোডম্যাপ তৈরি এবং উদীয়মান এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভারত-বাংলাদেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে।’

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্লু ইকোনমি কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল উত্তোলন, সমুদ্র সম্পদ ও গভীর সমুদ্র এলাকায় মাছ আহরণ, মেরিন ইকোলজি সংরক্ষণ, পরিবেশগত ও দুর্যোগ মোকাবেলা করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমিয়ে আনার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল মোদির ওই ব্লু ইকোনমি কর্মসূচিতে।

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে গভীর সমুদ্র এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা, প্রাকৃতিক জরিপ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে অন্য দেশকে সহযোগিতা করার মতো শক্ত অবস্থানে রয়েছে ভারত।

ভারত মহাসাগরের প্রবেশপথ বঙ্গোপসাগরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক লেন রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগরে (বঙ্গোপসাগর) হরমুজ প্রণালি থেকে সুয়েজ খাল, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর, মালাক্কা প্রণালি ও দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত চলাচলের লেনও রয়েছে।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। ভারত মহাসাগরের সিসিলিস, মরিশাস, শ্রীলঙ্কা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্লু ইকোনমিনির্ভর ওই কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে ভারত।

সমুদ্র নিরাপত্তা ও শক্তিতে ভারত এ অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে ১৫ বছরের একটি ভিশন হাতে নিয়েছে। গত বছর দেশটির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কমিশন দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া এ ভিশন ঘোষণা করেছে।






মন্তব্য চালু নেই