মেইন ম্যেনু

শিশুর হঠাৎ টনসিল?

এই গরম এই বৃষ্টি। রাতে হয়তো ফ্যান ছেড়ে ঘুমিয়েছেন, ভোর হতেই ঠাণ্ডায় কাপুনি উঠে গেছে। বড়দেরেই যেখানে এই অবস্থা ছোটদের অবস্থা আরও কাতর। অতিরিক্ত গরমে শরীরে ঘাম জমে। আবার বৃষ্টি হলে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় দেখা দেয় নানা সমস্যা। এসময় শিশুর টনসিলের সমস্যা বেশি হয়।

শিশুদের গলায় টনসিল একটি সাধারণ সমস্যা। শীতের সময় এ রোগের প্রকোপ থাকে। গরমের দিনেও ঠাণ্ডা-গরমে টনসিলের সমস্যা হয়। টনসিল লসিকাগ্রন্থি, যা আমাদের গলার ভেতরে শ্বাস ও খাদ্যনালীর মুখে অবস্থিত। শ্বাস ও পরিপাকতন্ত্রের প্রবেশপথে প্রহরী হিসেবে টনসিল কাজ করে। খাদ্য ও বায়ুবাহিত ক্ষতিকারক পদার্থ ও রোগজীবাণু ধ্বংস করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টনসিল শিশুদের চার থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে খুব সক্রিয় থাকে। এই সময়েই শিশুরা টনসিলের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়।

রোগের কারণ

* শিশুর দুর্বল স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, এলার্জি জনিত অসুখ, দাঁত, নাক ও সাইনাসের প্রদাহ এবং ঠাণ্ডার প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রোগ সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

* ভাইরাস ও বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে রোগ জটিল রূপ ধারণ করে।

* অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস এবং সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অবহেলা ইত্যাদি এ রোগের কারণ।

শিশু1রোগের লক্ষণ

* রোগের তীব্র পর্যায়ে গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, শিশু সাধারণত কিছু খেতে চায় না।

* ঢোক গেলার সময় কানের ব্যথা

* শরীরের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রায় ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

* জ্বরের সঙ্গে অনেক সময় কাঁপুনি, খিঁচুনি, মাথাব্যথা ও সারা শরীরে ব্যথাও থাকে।

* টনসিলের সঙ্গে কখনো পেটে ব্যথা হতে পারে।

* তাছাড়া গলার উপরিভাগের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায় ও ব্যথা থাকে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পেরিটনসিলার অ্যাবসেস বা টনসিলে পুঁজ জমা হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কানের প্রদাহ সঙ্গে নাক ও সাইনাসের প্রদাহ হতে পারে। এ রোগের মারাত্মক জটিলতায় রয়েছে-বাতজ্বর, হৃদরোগ ও দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ ইত্যাদি।

চিকিৎসা

রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাণ্ডা খাওয়া বাদ দিতে হবে। দাঁত ও মুখের সঠিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হবে। এরপরও উপশম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই