মেইন ম্যেনু

শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে আওয়ামী লীগ

বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা ও তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন যারা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের চেতনা এ কথাগুলো ব্যবহার করেন। তারা একবারও বলেন না যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক চেতনা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ছিল গণতান্ত্রিক চেতনা। এ জায়গাগুলোতে সবচেয়ে বড় রকমের আদর্শিক সংঘাত বলে আমরা মনে করি। কারণ এখনকার শাসকগোষ্ঠী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে তারা একদলীয় শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। একই সঙ্গে তারা মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। আজকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, বন্দুক, অস্ত্র ব্যবহার করে জনগণের যে ন্যায্য দাবি সেগুলোকে তারা দাবিয়ে রাখছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস বলে অস্ত্রদিয়ে জনগণের ন্যায় সংগত দাবি দাবিয়ে রাখা যায় না। কখনোই যাবে না।

সরকারের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের নামে মিথ্যাচার করছে। উন্নয়নের নামে কল্পকাহিনী করে দেশ ও বিশ্ববাসীকে বোকা বানানো হচ্ছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে যে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এতো প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে যে কখনো হয়নি। আজকে বাংলাদেশ উদীয়মান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আমি স্মরণ করে দিতে চাই, যে ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালে প্রবৃদ্ধির যে হার ছিল এখন পর্যন্ত সরকার সেখানে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে যেতে পারেনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যাকে করা হয়েছে তার সম্পর্কে ইতোমধ্যেই শুনেছেন। তিনি একজন আওয়ামী লীগদলীয় ব্যক্তি। আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এদেশের মানুষ অগ্রাহ্য করেছে। তার ফলাফল গ্রহণ করেনি। বিশ্ববাসীও গ্রহণ করেনি।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই