মেইন ম্যেনু

লাল দালান, কীসের হেরিটেজ?

লাল দালানগুলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশের প্রতীক। হেরিটেজের নামে এসব ধরে রাখার কোনো যুক্তি আছে বলে মনে করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব স্থাপনা কিছু কিছু ভেঙে ফেলারও পরামর্শ দেন তিনি।
রোববার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্ত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
নতুন নগরায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া ব্রিটিশ আমলের দালানগুলো এখনো ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলের কিছু কিছু স্থাপনা ভেঙে ফেলতে বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে আমি আরেকটা দিক দেখি, ব্রিটিশ আমলের ভাঙা দালান সেটা রাখা- এটার মনে হয় খুব একটা প্রয়োজন নেই। ঐতিহ্য রক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি ধরে রাখার একটা চেষ্টা…, হ্যাঁ যদি দৃষ্টিনন্দন হয় তাহলে দুই একটা জিনিস রাখা যেতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু লাল দালান যে কয়টা আছে সবই রেখে দিতে হবে হেরিটেজ হিসেবে, কীসের হেরিটেজ? ব্রিটিশদের গোলামি করেছি আমরা। তাদের হেরিটেজ রক্ষা করার কোনো প্রয়োজন আমাদের আছে বলে অন্তত আমি মনে করি না।’
দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিকল্পনা করে নতুন বিভাগগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দেন। দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা করে সব সরকারি দপ্তর ও আবাসিক এলাকার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বলেন।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও পর্যটন এলাকাগুলোর উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালে এখন যেভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয়, তার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঢাকার যেখানে সেখানে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও সমালোচনা করেন।
সরকারি পরিত্যক্ত জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করতেও তিনি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।






মন্তব্য চালু নেই