মেইন ম্যেনু

রোগী বসার জায়গা ডাক্তারের দখলে!

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের বসার জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকলেও তা দখল করে নিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফলে ‍গুরুতর অসুস্থ রোগীরা পড়ছেন বিপাকে। বেশি অসুস্থ ও বৃদ্ধ রোগীদের জন্য চেয়ার খালি পাওয়া যায় না এই হাসপাতালে।

জরুরি বিভাগে দুটি বেড থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। বিশেষ করে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পরে। জরুরি বিভাগের অন্য একটি রুমে বসেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও ইন্টার্নি করা শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই অবস্থা দেখা যায়। জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের একটি ডাক্তারের চেয়ার আর টেবিলের সামনে রাখা বাকি চারটি চেয়ারে বসা টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট টেনিং স্কুলের ইর্ন্টানি করা ছাত্রছাত্রীরা।

এনায়েতপুর হতে আগত রোগী রফিক বলেন, এই বিষয়ে আর কী বলার আছে, রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বসার ব্যবস্থা নেই এখানে। আমরা পড়েছি বিপদে। প্রাইভেট হাসপাতালে গেলে টাকা বেশি নেয়, আর সরকারি হাসপালে আসলে সেবা পাই না।

টাঙ্গাইল শহরের কাগমাড়া এলাকা থেকে আগত মফিজুল হক বলেন, আমার বাবা মাথায় আঘাত পেলে আমি তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। তখন আমার বাবা দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। কিন্তু ওই সময়ে উপস্থিত জরুরি বিভাগের ইর্ন্টানি শিক্ষার্থীরা চেয়ারে বসে ছিলেন। আমি বলার পরও তারা আমার এই বৃদ্ধ বাবাকে বসতে দেয়নি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের এখানে রোগীর ভিড় বেশি রোগীদেরও বসার সুব্যবস্থা নেই এখানে। আর রোগীরা এখানে বেশিক্ষণ থাকে না। আর রোগীদের বসার জন্য একটি চেয়ার সব সময় খালি রাখা হয়। যারা এখানে ইন্টার্নি করার জন্য আসে আমাকে তাদের দিকটিও দেখতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে?

এ বিষয়ে কথা হয় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার পুতুল রায়ের সাথে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমিও লক্ষ করেছি, এবং রোগীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করার কাজ শুরু করেছি। আমাদের রুমের সংকট রয়েছে। আমরা পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটি পৃথক জরুরি বিভাগের ব্যবস্থা করব।

তিনি আরো বলেন, এ রুম দুটির ব্যবস্থা হলে সমস্যা অনেক অংশে কমে যাবে। আমি তিন মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মোবাইল ফোন নম্বর হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছি যাতে কোনো প্রকার সমস্যা ও অনিয়ম হলে ফোন করে আমাদেরকে জানাতে পারে। অনুসন্ধান রুমের সামনে একটি অভিযোগ বক্স দেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই