মেইন ম্যেনু

যৌনপল্লি উচ্ছেদ আন্দোলনে বাঁধা : বুধবার টাঙ্গাইলে হরতাল

টাঙ্গাইলে যৌনপল্লি উচ্ছেদ আন্দোলনে পুলিশি বাঁধা ও যৌনকর্মীদের উচ্ছেদের দাবিতে আগামী ২৪ ডিসেম্বের বুধবার টাঙ্গাইল শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পূর্ব ঘোষিত মিছিল ও সমাবেশে পুলিশি বাঁধা দেওয়ায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মওলানা শামসুজ্জামান অসামাজিক আন্দোলন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে এই ঘোষণা দেন।

এর আগে জুমার নামাজের পর শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসুল্লিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এ সময় মসজিদের চারপাশে বিপুল পরিমান পুলিশ তাদের ঘিরে রাখেন। পরে মুসুল্লিরা মিছিল নিয়ে নিরালা মোড়ের শহীদ মিনার ও বেবিস্ট্যান্ড যৌনপল্লির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে সেখানেই আগামী বুধবার হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় মাওলানা শামসুজ্জামান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। আমরা শান্তি ও ইসলামের জন্য আন্দোলন করছি। পুলিশি বাঁধা দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না।

এ সময় যৌনপল্লির বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, পতিতাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই হয়তো এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ অনেক দিন ধরেই এখানে কোনো যৌনকর্মী ছিল না। কেউ হয়তো কোর্টে ভুল তথ্য দিয়েছে। তারপরও যেহেতু হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে তাই এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে যাতে এখানে পতিতাবৃত্তি না করা হয়।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী মওলানা আবদুল জলিল, মুফতি এরশাদুল ইসলাম, মুফতি ইলিয়াস হাকিম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকাতেও টাঙ্গাইলে পুনরায় পতিতা পল্লি বসতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফৌজিয়া করিম ফিরোজী তাদের (যৌনকর্মীদের) পক্ষে রিট আবেদন করলে গত ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ড. কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের দৈত্য বেঞ্চ টাঙ্গাইল যৌনপল্লি থেকে যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ না করাসহ সামাজিকভাবে তাদের হয়রানি না করার জন্য প্রতিপক্ষের প্রতি আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আদেশে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া যৌনকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্যও বলা হয়েছে। এই আদেশ পেয়ে গত সোমবার রাত থেকে যৌনকর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে।






মন্তব্য চালু নেই