মেইন ম্যেনু

মৃধাকে বাদ দিয়ে ২ মামলায় দুদকের চার্জশিট

রাজধানী ঢাকার বিজিবি গেটে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গুডস সহকারী নিয়োগ ও রেকর্ড কিপার নিয়োগে দুর্নীতির মামলা থেকে রেলেওয়ে পূর্বাঞ্চলের আলোচিত সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দুদক।

রোববার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমানের আদালতে দুদকের দুই কর্মকর্তা পৃথক মামলা দুটির চার্জশিট দাখিল করেন।

আদালত অভিযোগ পত্রের উপর শুনানির জন্য আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। গুডস সরবরাহ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমাদেন দুদকের উপ পরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম আর রেকর্ড কিপর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দেন দুদকের সহকারি পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে চার্জশিট থেকে মৃধাকে বাদ দিলেও মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রেলের সাবেক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও সরওয়ার আলমকে। এর মধ্যে গুডস সহকারি নিয়োগ মামলায় শুধুমাত্র গোলাম কিবরিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুদুকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ চার্জশিট ২টি অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ৩২ ধারায় এবং দুদক বিধিমালা ২০০৭ এর উপ-বিধি ১(এ) ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চট্টগ্রামে পাঠানো সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়।

গুডস সহকারী নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম ও রেকর্ড কিপার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দুদুকের সহকাইর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘এই দুই মামলার তদন্তকালে অভিযুক্ত সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষকসহ রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সবাই দুর্নীতির জন্য গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কেউ মৃধার সম্পৃক্ততার কথা বলেনি। মৃধা শুধু অফিস প্রধান হিসেবে নিয়োগের ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। তাই মামলা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, ‘গুডস সহকারি ও রেকর্ড কিপার দুটি মামলার অভিযোগপত্র সিএমএম আদালতে জমা দিয়েছি। দুইটি মামলার এজাহারে ইউসুফ আলী মৃধার নাম থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। এজন্য তাকে অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আদালত ২৭ আগস্ট অভিযোগপত্রের উপর আদেশের সময় নির্ধারণ করেছেন।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, রেলে গুডস সহকারী পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নগরীর কোতয়ালি থানায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বরখাস্ত হওয়া মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম।

একই দিন রেকর্ড কিপার পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কোতয়ালি থানায় ইউসুফ আলী মৃধা, সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও রেকর্ড কিপার সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

এ মামলা দুটি দুদক আইন অনুযায়ী তারা তদন্ত করেন। তদন্তের পর গত ২৬ জুলাই অভিযোগপত্র দু’টি চট্টগ্রাম আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন। রোববার অভিযোগ পত্র দুটি সিএমএম আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

গুডস সহকারী পদের মামলার অভিযোপত্রে শুধু গোলাম কিবরিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর রেকর্ড কিপার পদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে গোলাম কিবরিয়া ও সরওয়ার আলমকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দন্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ৪৭৭ (ক), ২১৭ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ও ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে আরও ছয়টি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে রয়েছে টিকিট ইস্যুয়ার, সহকারী লোকোমাস্টার, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক, সিনিয়র ডাটা-এন্ট্রি কন্ট্রোলার এবং কার্পেন্টার মামলা।

এছাড়া সহকারী কেমিস্ট এবং ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় বর্তমানে ইউসুফ আলী মৃধাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বর্তমানে অভিযুক্ত তিনজনই জেলহাজতে রয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই