মেইন ম্যেনু

মানিকগঞ্জে শিশু ধর্ষণের ভিডিওসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চর কুশুন্ডা গ্রামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপসহ পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই গ্রামের আবদুল গণি মল্লিকের ছেলে শাহিন মল্লিক (২০) ও শাহিনের বড় ভাই বাদশা মল্লিক (২৭) এবং শাহিনের বন্ধু আবদুল লতিফের ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)। শিশুটি ও স্বজনেরা জানায়, গত ৯ মে বিকেলে প্রতিবেশী শাহিনের বাড়ির পাশ দিয়ে একই গ্রামের নানা বাড়ি যাচ্ছিল শিশুটি।

এ সময় শাহিন শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজ ঘরের ভেতর নিয়ে সাউন্ড বক্সে গান বাজান শুরু করেন। এক পর্যায়ে শাহিন শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। শিশুটি আর্তচিৎকার করলেও উচ্চ স্বরের গানের কারণে আশপাশের লোকজন তা টের পায়নি। শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে শাহিন তার অপর বন্ধু একই গ্রামের দবির মল্লিকের ছেলে রমজান মল্লিককে (২০) মোবাইল ফোনে ডেকে বাড়ি আনে। রমজান এসেও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের এই ভিডিও ক্লিপ শাহিন নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এরপর তারা ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে বলে শিশুটিকে হুমকি দেন। শিশুটিও ভয়ে স্বজনদের কাছে না বলে বিষয়টি চেপে যায়।

শিশুটির বাবা জানায়, এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পরে শাহিনের মোবাইল ফোন থেকে ব্লু-টুথে গান নিতে গিয়ে তারই বন্ধু একই গ্রামের রায়হান ও হৃদয় ধর্ষণের ভিড়িও ক্লিপটি দেখতে পান। এর পরই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। তখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গত রবিবার ঘিওর থানায় শাহিন ও রমজানকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গত সোমবার শিশটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে মানিকগঞ্জ শহরের বান্দুটিয়া এলাকা থেকে শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখা তথ্যের ভিত্তিতে ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করতে বুধবার সকালে চরকুশন্ডা এলাকায় থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার রাতে সাভারের কাতলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদশাকে মোবাইল ফোনসেট ও মেমোরি কার্ডে ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে শিবালয় সার্কেল এএসপি হারুণ-অর রশিদ জানান, ভিডিও ক্লিপটি যাতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে না পড়ে, এ কারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও সর্তকতার সঙ্গে তা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বেলা ১১টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। তদন্তে যাদের এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে। তারই মামলার আসামি হবেন। এক্ষেত্রে আসামির সংখ্যাও বাড়তে পারে বলেও জানান সার্কেল এএসপি হারুণ-অর রশিদ।






মন্তব্য চালু নেই