মেইন ম্যেনু

মমতাকে নিয়েই ঢাকায় আসছেন মোদি!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্কের খবর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সংশোধিত সীমান্ত চুক্তির কারণেই অতীতের সেই তিক্ততার মাত্রা খানিকটা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গে সফরে গিয়ে মোদি এক মঞ্চে মমতার সঙ্গে বসেছেন। এক সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা। এবার জুনের প্রথম সপ্তাহে মোদির বাংলাদেশ সফরের সঙ্গী হচ্ছেন মমতা! সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপেস।

চলতি মাসেই প্রথম দিকে সীমান্ত চুক্তি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর খবর বের হয়- মোদি-মমতা একসঙ্গে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কিন্তু এই খবর প্রকাশের পরের দিনই তা নাকচ করে দেয় মমতার কার্যালয়।

এ ব্যাপারে রোববার ভারতীয় সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মমতা মোদির সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে আসার সম্মতি জানিয়েছেন। দুদেশের মধ্যেকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি, যা একটি ভিন্ন কাঠামোয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কলকাতার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দু-একদিনের মধ্যে তার (মমতা) আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র হাতে পেতে পারি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য তার কার্যালয় থেকে শিগগিরই আমাদের কাছে পৌঁছবে।’

শুধু সীমান্ত বিল পাসেই চলবে না, চুক্তি স্বাক্ষরে মমতার সম্মতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন। আর তাই এবার মমতাকে রাজি করাতে পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের সফরে যান নরেন্দ্র মোদি।

তখন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সফরের প্রথম দিন নজরুল মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মমতাকে বাংলাদেশ সফরে তার সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। মমতা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই যাবো।’

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ ও ৭ জুন নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসবেন। ঢাকা ও নয়াদিল্লি আলোচনার ভিত্তিতেই ওই সফরসূচি চূড়ান্ত করেছে। সফরে স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে আরেক সমস্যা তিস্তার পানি বণ্টনে চুক্তি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি বণ্টন নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েই গেছে। বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়েও দুটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বাণিজ্য প্রসারের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে মোটরযান (মোটর ভেহিক্যালস প্যাক্ট) চুক্তি ব্যাপারে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্ল। মোদি ঢাকা সফরের সময় এ নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। চুক্তিটি করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করতে পারেন মোদি।

মোদির বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে শনিবার ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন-৬ এর অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘মোটরযান চুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য সহজতর করতে ওই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।’

মোটরযান চুক্তি বাস্তবায়ন হলে অবাধে এক দেশ থেকে অন্যদেশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান এবং ব্যক্তিগত বাহন চলাচল করতে পারবে। এ জন্য এক দেশের যানবাহন অন্য দেশে চলাচলের জন্য পারমিট থাকতে হবে। প্রতিবছর শেষে তা নবায়ন করতে হবে। নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহনকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পারমিট দেওয়া হবে। আর তা দেবে সংশ্লিষ্ট দেশের নির্ধারিত সংস্থা।






মন্তব্য চালু নেই