মেইন ম্যেনু

ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা : পাথর মেরে ভাঙানো হয় চালকের ঘুম!

জয়পুরহাটে অল্পের জন্য ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল রাজশাহীগামী আন্তঃনগর উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন ও সৈয়দপুরগামী একটি তেলবাহী ট্রেন। ফলে রক্ষা পেয়েছে কয়েকশ’ যাত্রীর প্রাণ।

এ সময় তেলবাহী ট্রেনটি থামতে এর চালক হঠাৎ হার্ডব্রেক করায় রেল লাইনের পয়েন্ট কানেক্টিং রড ভেঙে যায়। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জয়পুরহাট রেলস্টেশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাট রেল স্টেশন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জেলার উত্তর দিকের পাঁচবিবি স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ৩২নং আন্তঃনগর উত্তরা এক্সপ্রেস ডাউন ট্রেনটি জয়পুরহাট স্টেশনে ঢোকার মুহূর্তে আউটার সিগন্যালে লালবাতি এবং দূরে একটি ট্রেন আসতে দেখে এর চালক মিজানুর রহমান ট্রেনটি থামিয়ে দেন।

অন্যদিকে জয়পুরহাটের দক্ষিণে অবস্থিত জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের দিক থেকে জয়পুরহাটের দিকে আসা কেপি-৪১নং তেলবাহী ট্রেন (মালট্রেন) জয়পুরহাট স্টেশনে না থেমে স্টেশন অতিক্রম করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তেলবাহী ট্রেনটি রেল ক্রসিংয়ের দিকে আসতে থাকলে ওই মুহূর্তে এ দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ওই রেল ক্রসিংয়ে কর্মরত গেটম্যান পংকজ কুমার তার হাতে লাল কাপড় উঁচিয়ে চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তেলবাহী ট্রেনটিকে থামানোর চেষ্টা করেন।

এমন আশংকাজনক অবস্থায় ওই সময় তেলবাহী ট্রেনের চালক নুরুল ইসলাম ভাগ্যক্রমে জয়পুরহাট শহরের রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানের হাতের লাল কাপড় ও একই লাইনে বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন দেখে তড়িঘড়ি করে হার্ডব্রেক করেন। এতে তেলবাহী ট্রেনটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কাছাকাছি গিয়ে ওই রেল লাইনের পয়েন্ট কানেক্টিং রড ভেঙে থেমে যায়।

ফলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেন দুটি। আর এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান আন্তঃনগর উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েক শ’ যাত্রী।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট রেল স্টেশন মাস্টার আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের জানান, তেলবাহী ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের আগে চালক সিগনাল অমান্য করেছে।

তিনি জানান, স্টেশনে প্রবেশের আগে আউটার স্টেশনের বিপরীতে রেল ক্রসিংয়ে কর্মরত আপগ্রেড গেটম্যান আনিছুর রহমান দ্রুতগতিতে তেলবাহী ট্রেন যাওয়ায় ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়েছে ও তেলবাহী ট্রেনটি ওভারস্যুট করতে পারে- এমন আশংকার কথা মুহূর্তেই স্টেশন মাস্টারকে জানান।

স্টেশন মাস্টার দ্রুত প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে মালগাড়ি আসার মুহূর্তে পাথর নিক্ষেপ করে ড্রাইভারের ঘুম ভাঙায়। এ সময় ড্রাইভার তেলবাহী ট্রেনটি ব্রেক কষলেও ট্রেনটি স্টেশন থেকে প্রায় ৩শ’ গজ দূরে গিয়ে রেললাইনের কানেক্টিং রড ভেঙে থেমে যায়।

জয়পুরহাট রেল স্টেশন মাস্টারের দাবি, তেলবাহী ট্রেনের ড্রাইভার সিগনাল অমান্য করায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

তবে তেলবাহী ট্রেনের ড্রাইভার নুরুল ইসলাম স্টেশন মাস্টারের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আউটার সিগন্যালে লাইন ক্লিয়ারেন্স ছিল।’

এদিকে এ ঘটনার ব্যাপারে ইতিমধ্যে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট রেল স্টেশন মাস্টার শওকত আলী।






মন্তব্য চালু নেই