মেইন ম্যেনু

বড়পুকুরিয়া খনির পাশে ৩ গ্রামে ফাটল, দেবে যাচ্ছে মাটি

দিনাজপুর জেলার বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার আশপাশের বাড়ি ঘর ও জমিতে নতুন করে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) বড়পুকুরিয়া ৯নম্বর হামিদপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার বাঁশপুকুর, বৌদ্দনাথপুরম ও শীবকৃষ্ণপুর গ্রামের বাড়ি ঘর ও আবাদি জমি এবং চলাচলের রাস্তাগুলোতে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এমনকি ওই সব এলাকা দেবে যাচ্ছে।

খনি এলাকায় জীবন পরিবেশ ও রক্ষাকমিটির আহবায়ক মো. মশিউর রহমান বুলবুল হামিদপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ ওইসব এলাকায় গত ২৯ মার্চ (বুধবার) সকালে পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খনি কর্তৃপক্ষকে জানান।

তিনি জানান, গত ৫ বছর আগে সরকার ওই এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নতুন করে একোয়ার করেছেন। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম কয়লাখনির মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে কিছু অংশ গ্রাম বাদ পড়ে যায়। এতে ১০০ একর জমি একোয়ার ভুক্ত করা হয়নি। ওই এলাকার গ্রামগুলোর ভু-গর্ভস্থ থেকে কয়লা তোলার কারণে নতুন করে গ্রামগুলোর আবাদি জমি, রাস্তাঘাট, বাসাবাড়িতে ফাটল শুরু হয়েছে। গ্রামের মানুষরা এখন আতঙ্কে দিন কাটছে। অনেকে রাতে নিজ বাড়িতে না থেকে অন্যের এলাকায় গিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে রাত কাটছে। ইতোপুর্বে এমন ঘটনা এ এলাকায় হওয়ার পরও এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনে সরকার এলাকার মানুষকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। সেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে এলাকার মানুষ সন্তোষ্ট নয়। বলা হয়েছিল যারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাদের জন্য নতুন করে কোল মাইনিং বিগ সিটি টাউন গড়ে তোলা হবে। যা দেখে এলাকার মানুষ খুশি হবে।

কিন্তু এলাকার মন্ত্রী তা করতে ব্যার্থ হয়েছেন। এলাকার মানুষ খনি আন্দোলন করতে গেলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। যাতে কেউ খনির বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে না পারে। এই এলাকার মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা কোন দিন পুরণ হওয়ার কথা নয়। স্কুল কলেজ, আবাদিজমি, বাসাবাড়ি, গাছপালা, সাতপুরুষের কবরস্থান, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, হাটবাজার সহ সবকিছু হারিয়েছে। এখন ওই এলাকা শ্মশানে পরিনত হয়েছে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের প্রকৌশলী আলহাজ্ হাবীব উদ্দিন জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কি পরিমাণ এলাকার ক্ষতি হচ্ছে তা কমিটি সিন্ধান্ত নিবে। আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে পূর্বের ন্যায় ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে।

এবিষয়ে হামিদপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছাদেকুল ইসলাম জানান, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান তরফদারকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান তরফদার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।






মন্তব্য চালু নেই