মেইন ম্যেনু

ব্যর্থদের নিয়েই মহানগরের নতুন কমিটি!

সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙা করার প্রত্যয় নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি। ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আর সদস্য সচিব করা হয়েছে নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেলকে।

সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের এ কমিটিতে আরো বেশ কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব এবং কেন্দ্রীয় সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। পাশাপাশি স্থান পেয়েছেনব সাবেক কমিটির নেতারাও।

নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর তাৎক্ষণিক নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আনন্দ মিছিলও করে।

ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটির প্রভাব ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের ওপর পড়েছে। পল্টন থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফিরোজ আলম পাটওয়ারী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও দাবি এমনই ছিল। যাতে শক্তিশালী আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো যায়।’

দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ফিরোজ আলম বলেন,‘ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। নইলে আপনাদেরও ব্যর্থ হতে হবে।’

খানিকটা শঙ্কা প্রকাশ করে পল্টন থানা বিএনপি এ নেতা বলেন, ‘অতীতে কমিটি গঠন নিয়ে বিভিন্ন নেতাদের নামে বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এবার সে আশঙ্কা ৮০ ভাগ নেই।’

তবে নতুন ধাঁচের এ কমিটির নেতাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে অনেকেই রয়েছেন অন্ধকারে। উপদেষ্টাদের দায়িত্ব কী হবে তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে কানাঘুষা। কেউ কেউ আবার বিষয়টি নিয়ে উপহাসও করছেন।

দলের নিবেদিতপ্রাণ এক কর্মী প্রশ্ন তোলেন, ‘গত কমিটিতে যারা ব্যর্থ হলেন, তাদেরই আবার এ কমিটিতে রাখা হলো। স্থায়ী কমিটির সদস্য যেখানে আহ্বায়ক সেখানে আবার খোকা-সালাম উপদেষ্টা। তাহলে কার দায়িত্ব কী হবে ?’ তিনি মন্তব্য করেন, এটা একটা হাস্যকর কমিটিই বটে।’

আগের কমিটির সদস্য সচিব যিনি বর্তমানে উপদেষ্টা সেই আব্দুস সালাম প্রত্যাশার করা জানিয়ে বললেন, ‘নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নতুন কমিটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলামেইলকে বলেন, ‘নতুন কমিটি একদিকে দলকে সুসংগঠিত করবে অপরদিকে পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের উপযোগী করে তুলবে।’

নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী দাবি করে আব্দুস সালাম পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরিতে সব রকমের সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান। একই সঙ্গে বলেন, ‘নতুন এ কমিটিতে ত্যাগী এবং যোগ্য নেতারা স্থান পাবে।’

জানতে চাইলে নতুন সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ওপর যে গুরু দায়িত্ব এবং নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমারা পালন করবো। নগর কমিটি আন্দোলনের উপযোগী এবং শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করবো। আমরা সফল হবো ইনশাআল্লাহ।’

আগের কমিটির নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের যে বিতর্ক রয়েছে এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে জানি না, এখনকার দায়িত্ব পালন করে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় সুনিশ্চিত করবো।’

নগর কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘সবাইকে রেখে ভালো একটা ব্যালেন্স কমিটি হয়েছে। এ কমিটির মূল স্পিরিট হবে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।’

নগর কমিটিতে ঠাঁই দেয়ার জন্য চেয়ারপারসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, ‘ম্যাডামের হয়তো আমার প্রতি প্রত্যাশা রয়েছে, তাই এ কমিটিতে স্থান হয়েছে। সমন্বিত কাজের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা যাবে।’

অতীতে দেখা গেছে কমিটি গঠন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে নানা বিতর্ক উঠেছে আগামীতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন ধরণের কথা শুনেছি। এগুলো আমি জানি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি খোকা ভাই (সাদেক হোসেন খোকা) এসবের সঙ্গে জড়িত নন। এবারে নতুন ধরণের কমিটি হয়েছে। এবার ওসব সুযোগ হবে না।’






মন্তব্য চালু নেই