মেইন ম্যেনু

বাই বাই ২০১৪

বাই বাই ২০১৪। অনন্ত কালস্রোতের তরী বেয়ে আজ মধ্যরাতে বিদায় নেবে আরো একটি খ্রিষ্টীয় বছর। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বছরটি ঠাঁই নেবে সেই অনন্ত কালের গর্ভেই। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বারোটি পুরাতন পাতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করবে বিশ্ববাসী। মধ্য রাতের আঁধার ঠেলে চোখ ধাঁধাবে আতশবাজির ঝলকানি। বর্ষবরণের আরো কত শত আয়োজন নিয়ে মেতে উঠবে অগুনতি তরুণ-তরুণী, শিশু। রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হবে ইংরেজি নববর্ষ বরণের আলোকোজ্জ্বল উৎসব। বিদায় ২০১৪! স্বাগতম ২০১৫! হ্যাপি নিউ ইয়ার!

এক বছরের আনন্দ-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতার পটভূমিতে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ নতুন বছরে সব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন দেশবাসী। দেশে এক রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতির ভেতর কাল জানুয়ারির পয়লা দিন। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪ কে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব পূরণ না হলেও যা পাওয়া গেছে তাও কম নয়। কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে বলা যায়, নতুন বছর ২০১৫ সালের কাছে অনেক প্রত্যাশার বীজ বুনে বিদায় নিয়েছে ২০১৪।

বছরটি বিদায় নিতে নিতে বেশ কয়েকটি বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। আবার এ বছরের শেষ ও শুরু দুটোই হরতালের মধ্যদিয়ে। যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদন্ডের রায়ের প্রতিবাদে বছরের শেষদিন বুধবার এবং প্রথমদিন বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচির মধ্যদিয়েই চলতি বছর শেষ হচ্ছে হরতালে। আবার নতুন বছরের শুরুও হচ্ছে হরতালে। ফলে হরতালে রক্তঝরা বা জানমাল ক্ষয়ের আশঙ্কা ও চরম হতাশা নিয়েই কাটছে ২০১৪ বিদায় বছরের শেষদিন। ২০১৫ নতুন বছরের প্রথম দিনটিও আসন্ন অস্বস্তি, উদ্বেগ ও অজানা আশঙ্কা নিয়ে। এর মধ্য দিয়েই বিদায় ও নতুন বছরের শেষ এবং প্রথম দিন পড়ল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে।

এর একদিন আগে সোমবার হরতাল পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। হরতালে পিকেটারের ইটের আঘাতে প্রাণ যায় এক স্কুল শিক্ষিকার। এ ছাড়া যানবাহনে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।

২০১৪ বছরের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর পুরো বছর মাঝে মাঝে কিছু উষ্ণতা ছড়ানো ছাড়া মোটামোটি শান্তই ছিল রাজনৈতিক পরিবেশ। তবে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একের পর এক আন্দোলন না হলেও সর্বত্র উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান ছিল।

নতুন বছরের ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আগাম উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে আন্দোলনে ফেরার লাগাতার কর্মসূচি হুমকিও নতুন বছরে নিয়ে আসছে অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা এমনকি জানমাল ও রক্তক্ষয়ের আশঙ্কাও করছে সর্বমহল।

বছরের শেষ সময়ে এসে কমলাপুরে ট্রেন-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে ৬টি প্রাণের ঝরে যাওয়াসহ পাবনা সিরাজগঞ্জে বাস দুর্ঘটনায় আরও কিছু মৃত্যু দেখতে হল আমাদের। বছরের শেষে রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের করুণ মৃত্যু এবং তাকে জীবিত উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা যেমন দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে, তেমনি জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টায় কিছু লড়াকু তরুণের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আশাবাদী করেছে মানুষকে। এমন তরুণদের হাত ধরেই আমরা ২০১৫ সালে প্রবেশ করতে চাই। যারা সব ব্যর্থতা ঘুচিয়ে দিয়ে আমাদের নিয়ে যাবে সাফল্যের দুয়ারে।

বছরের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ফের দুর্ঘটনায় পড়ে আরেকটি বিমান। ২৮ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার এয়ারএশিয়া এয়ারলাইন্সের ইন্দোনেশিয়া ইউনিটের একটি বিমান ১৬২ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে জাভা সাগরে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এর আগেও ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের অত্যাধুনিক বোয়িং। মালয়েশিয়ার আরেকটি বিমান মধ্য আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনা ও বিপুল প্রাণহানির কারণে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স বিশ্বের বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে স্থায়ী আসন নিয়েছে যেন।

২০১৪ সালে আশায় বসতি ছিল আমাদের। সেই ২০১৪ সালে আমরা প্রবেশ করেছিলাম প্রচন্ড এক শংকা ও অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে। বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সেই নির্বাচন বর্জন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে দেশজুড়ে তখন চরম অস্থিরতা। এ অস্থিরতার মধ্যেই হয়ে গেল নির্বাচন। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটতে থাকল সাম্প্রদায়িক হামলা-নির্যাতনের ঘটনা। এরই মধ্যে দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিলেন। সংসদে আবারও আওয়ামী লীগের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। প্রধান বিরোধী দলের আসনে জাতীয় পার্টি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ সংসদ নেতা নির্বাচিত করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আর বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ। দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি সংসদের বাইরে। জনমনে শংকা, নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা বছরজুড়ে আন্দোলন করবেন নিশ্চয়ই। কী হবে তার স্বরূপ? সহিংসতা, হরতাল-অবরোধ, অস্থিরতা- এসব কি চলতেই থাকবে?

এ অনিশ্চয়তা নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বিদায়ী বছরটির। স্বস্তির বিষয়, ২০১৪ সাল মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই কেটেছে। যে কারণেই হোক, রাজনীতিকরা সহিংসতার পথ পরিহার করেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের অবস্থা আর ফিরে আসেনি। তবে কোথায় যেন একটি অস্বস্তিকর অবস্থা রয়ে গেছে! এ শান্তিপূর্ণ অবস্থা কতদিন থাকবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তাই রাজনৈতিক উত্তেজনার বীজ রয়েই গেছে। ফলে যে অনিশ্চয়তা নিয়ে আমরা ২০১৪-তে প্রবেশ করেছিলাম, সেই একই অনিশ্চয়তা নিয়েই প্রবেশ করব ২০১৫ সালে।






মন্তব্য চালু নেই