মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বেচতে চায় ভারত

ঢাকার সঙ্গে নিরাপত্তা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি। এর অংশ হিসেবে নিজেদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করতে চায় ভারত। এ জন্য কমবেশি চার হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। আগামী এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকালেই এ-সংক্রান্ত চুক্তি করতে চায় ভারত।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সামরিক খাতের সিংহভাগ সরঞ্জাম বাংলাদেশ বর্তমানে চীন থেকে সংগ্রহ করছে। দুটি মিং ক্লাস সাবমেরিন এরই মধ্যে বেইজিং থেকে সংগ্রহ করেছে ঢাকা। এ ছাড়া দুটি উন্নতমানের যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত করছে চীন। এর আগে বিগত পাঁচ বছরে পাঁচটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা টহল নৌযান, দুটি রণতরী, ৪৪টি ট্যাংক, ১৬টি যুদ্ধবিমান এবং ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র চীন থেকে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশ-চীন সামরিক সহযোগিতার এমন ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে।

নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীন থেকে সাবমেরিন সংগ্রহ করার বিষয়টি দুটি কারণে ভারতের জন্য উদ্বেগের। এক, বাংলাদেশ কার সঙ্গে যুদ্ধ করবে, যে কারণে সাবমেরিন সংগ্রহ করছে। দুই, চীন থেকে সাবমেরিন সংগ্রহ করার পর, চীন বাংলাদেশে একটি সাবরেমিন ঘাঁটিও বানিয়েছে। আর ওই ঘাঁটিতে চীনের সাবমেরিন থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু বিষয়টি ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, বিগত ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন থেকে সাবমেরিন কেনার ঘোষণা দেয়ার সময়ই এ বিষয়ের ওপর নজর রাখতে শুরু করে ভারত। গত ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে এসেও একান্ত আলাপে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তখন ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে বলা হয় যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামরিক খাতের সহযোগিতায় ভারতের কোনো ক্ষতি হবে না। নরেন্দ্র মোদির ওই সফরেই ঢাকা দিল্লিকে ট্রানজিট দেয়ার নামে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে এই বার্তা দেয় যে ঢাকা সম্পর্ক উন্নয়নে বিশ্বাসী।

ঢাকার কূটনীতিকরা আরো বলছেন, এর পরই গত নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর হঠাৎ করেই দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ভারতের সেনা ও বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ, নৌবাহিনীর ডেপুটি চিফ ও কোস্টগার্ড প্রধান। তার এ সফর সম্পর্কে ভারতীয় পত্রিকায় বলা হয়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কমিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ দৃঢ় করার লক্ষ্যে মনোহর এ সফর করেন। মনোহর পারিকর ওই সফরে চট্টগ্রামে সামরিক একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ঢাকা সফরে এসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে চুক্তি করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবিত চুক্তির মধ্যে আছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পৃক্ততা বাড়ানো, দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া পরিচালনা, দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা, ব্লু-ইকোনমি শক্তিশালী করতে সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর জন্য ভারতের উৎপাদন করা সরঞ্জাম কেনা। ওই প্রস্তাবে আরো আছে যে সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম কিনতে প্রয়োজনে নয়াদিল্লি কমবেশি চার হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিয়ে ঢাকাকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, দেশের সামরিক বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রীর আগামী এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে দুটি সহযোগিতা চুক্তি করবে বাংলাদেশ। তবে সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম কেনা বিষয়ে চুক্তি করবে কি না ওই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরঞ্জমা কেনার বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহলে যাচাই-বাছাই চলছে।

পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগামী ভারত সফরের অ্যাজেন্ডায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি থাকবে। এ বিষয়ে একাধিক চুক্তি হতে পারে।’ সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে চুক্তি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্ষীয়ান কূটনীতিক এবং সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর। কেননা বড় একটি রাষ্ট্রের পাশে ছোট একটি রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে টিকে থাকা সহজ কথা নয়। তবে দু’দেশের সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক লাভজনক হতে হবে। উন্নয়নের জন্য জন-অনুমোদিত পদক্ষেপ নিতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই