মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত মাঠ বেদখল

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘জেলা রেডিস্টারি মাঠ’। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে গৌরবময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এই মাঠ এখন হকারদের দখলে। ‘ভাই ভাই সমবায় সমিতি’ নামক একটি ভুঁইফোড় সংগঠন মাঠটি নিয়ন্ত্রণ করে। তারা হকারদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জেলা রেজিস্ট্রারি অফিসের কর্মকর্তারা এদের কাছে পাত্তা পান না।
অতিষ্ঠ হয়ে গত ২ ডিসেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে হকার উচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার মকবুল হোসেন খান। কিন্তু জেলা প্রশাসক সাড়া দেয়নি। গত ২৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে ফের আবেদন জানান জেলা রেজিস্ট্রার।
সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠ মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক স্থান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এই মাঠে। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রথম সিলেট আসেন, তখন তাকে এই মাঠে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়া স্বাধীকার, স্বাধীনতা, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বহু আন্দোলন সংগ্রামে সাক্ষী এই মাঠ।
সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠে হকাররা বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের দোকান সাজিয়ে বসে আছে। শুধু কাপড়ের দোকানই নয়, চায়ের দোকান, ফটোকপির দোকানও রয়েছে।
কে বা কারা এই মাঠ দখল করে রেখেছে এসব খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, ভাই ভাই সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠন দখলদারির নেতৃত্বে। সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলে হকারদের কাছ থেকে ভাড়া নেন।
এদিকে সন্ধ্যার পর রেজিস্ট্রারি মাঠ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মদ, গাঁজা সেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। বাধা দিতে গেলে মাঠের নৈশপ্রহরীরাও লাঞ্ছিত হন।
জেলা রেজিস্ট্রারি অফিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন শত শত লোক দলিল রেজিস্ট্রি ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহের জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। কিন্তু হকাররা পুরো মাঠ দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষজন তাদের যানবাহন রাখার জায়গা তো পানই না, বরং স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি কেউ রেজিস্ট্রারি মাঠে নিজের গাড়ি রাখতে চাইলে হকাররা বাধা দেয়। যার ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া সর্বক্ষণ হকারদের হৈ-হুল্লোড় অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে।
এদিকে নানাভাবে হকারদের উচ্ছেদের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার মকবুল হোসেন খান। ২ ও ২৪ ডিসেম্বর দুই দফায় লিখিত আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানা তিনি।
তবে মাঠ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ‘ভাই ভাই সমবায় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক সালেখ মিয়া বলেন, ‘আমরা পেটের তাগিদে খালি জায়গা পেয়ে এই মাঠে বসেছি। সিলেট সিটি করপোরেশন আমাদের জন্য বসার জায়গা দিলে আমরা এই মাঠ খালি করে দেব।’
তিনি জানান, এই মাঠে প্রায় একশ হকার আছে। এদের কেউ কাউকে চাঁদা দেয় না, নেয় না। তবে নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তারা ওই সমবায় সমিতি করেছেন বলে জানান তিনি।
জেলা রেজিস্ট্রার মকবুল হোসেন খান বলেন, ‘আমরা লিখিত আবেদন করেছি। তবে সরাসরি এ ব্যাপারে আবার জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলবো।’
সিলেট জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্টরা অভিযানের দিনক্ষণ ঠিক করলে আমি ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেবো।’






মন্তব্য চালু নেই