মেইন ম্যেনু

প্রেমিকার বাড়ীতে প্রবাসী ফেসবুক প্রেমিক খুন। ফেসবুকে প্রেম করতে হলে সাবধান!

এটি ২ সপ্তাহ আগের ঘটনা। বর্তমানে ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকে প্রেমে জড়াচ্ছেন। ফেক প্রোফাইল, আইডি এসবের আড়ালের আসল মানুষটিকে চেনা কঠিন। অপর প্রান্তের মানুষের সুন্দর শব্দচয়ন বা সুমধুর কন্ঠ বা সুন্দর প্রোফাইল পিকচারে আকৃষ্ট হওয়ার আগে যাচাই করুন। এই প্রেমিক প্রেমিকাদের সাবধান করতেই সংবাদটি প্রকাশ করা হল।

ওসমানীনগরে (সিলেট), ২৫ সেপ্টেম্বরঃ ফেসবুকে প্রেম সম্পর্কের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে প্রেমিকার বাড়িতে ফ্রান্স প্রবাসী প্রেমিক খুন হয়েছেন। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইলাশপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৩০)। রাত ১০টায় উপজেলার ইছামতি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওসমানীনগর উপজেলার ইছামতি গ্রামের সাবেক মেম্বার মাহমদ আলীর মেয়ে কলেজপড়ুয়া ছাত্রী নিলুফা বেগম (১৮)-এর।

প্রেমের টানে সিরাজুল ইসলাম দেশে এসে নিলুফার অভিভাবকদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রেমিকার অভিভাবকরাও সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে যান, সেখানে বিয়ের আলোচনাও হয়। পরে সিরাজুল ইসলাম বিবাহিত ও প্রবাসে তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে- এমন খবর জানতে পেরে কনে পক্ষ বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম নিষেধ না মেনে মরিয়া হয়ে ওঠেন নিলুফাকে পাওয়ার জন্য। নিলুফার নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখেন। এ ব্যাপারে মাহমদ আলী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় গত ৪ঠা আগস্ট সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই জের ধরে মাহমদ আলীর আত্মীয় ইছামতি গ্রামের খলিল ও মোসলেহ মঙ্গলবার সকালে সিরাজুল ইসলামকে ফোন দিয়ে বিয়ের দিন-তারিখ পাকাপোক্ত করতে তাদের বাড়িতে আসার জন্য বলেন। মোবাইল ফোনে এমন খবর পেয়ে সিরাজুল তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিলুফার বাড়িতে যান। আসার পর ড্রয়িং রুমে বসে চা-নাস্তা খাওয়ার পর মাহমদ আলী তিন বন্ধুকে রেখে শুধু সিরাজুলকে অন্য ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করে। পরে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে সিরাজুলসহ সঙ্গে থাকা বন্ধুদের অপহরণকারী হিসেবে পুলিশে সোপর্দ করেন। তাকে দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বন্ধুদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজুলের মৃত্যু হয়। মাহমদ আলী বলেন, সিরাজুলসহ তিনজন আমার মেয়েকে অপহরণ করতে এসেছিল। আমরা মেয়ে রক্ষা করতে সিরাজুলসহ তার বন্ধুদের আটক করে থানায় দিয়েছি।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জুবের আহমদ বলেন, আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই