মেইন ম্যেনু

আব্বাস প্রসঙ্গে চুপ্পু

প্রমাণ পেলে আসামি, না পেলে সাক্ষী

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিধি বহির্ভূতভাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে আসামি করে মামলা করা হবে আর যদি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া তাহলে তাকে সাক্ষী করা হবে।’
রোববার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চুপ্পু। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মির্জা আব্বাসের সম্পৃক্ততা আছে এই কারণে যে, তিনি তখন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই তার বিষয়ে সিন্ধন্ত নেয়া হবে।’
‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিরপুরে ১৪ একর জমির মধ্যে ৭ একর জমি প্লট আকারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বরাদ্দ দেয়া হয়। তখনকার সময়ের বাজার মূল্যে এই প্লট দেয়া হয়নি বলে দুদকের কাছে প্রমাণ রয়েছে। তখন প্রতিএকরের ধরা হয় মাত্র ১৬ লাখ টাকা।’
অন্যদিকে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান দুদকে সাক্ষ্য দিতে এসে বলেন, ‘আমাকে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে। আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি। অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির কাজটি ভালো করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি মিলে একটি সংগঠন (ঝিলমিল বহুমুখী সমবায় সমিতি) করি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় ওই সংগঠনের জন্য স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে ওই স্থান থেকে ঢাকা সাংবাদিক সমিতিকে নীতি বহির্ভূতভাবে সাত একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির বিধি বহির্ভূতভাবে এ কাজ করেন।’
প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলার তদন্তে নৌমন্ত্রীকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
পরে দুপুরের দিকে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মিজা আব্বাস আসলে তিনি ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে চলে যান।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আলমগীর কবিরের হস্তক্ষেপে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সাত একর সম্পত্তি ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বরাদ্দ দিয়ে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাত করেছেন-এমন অভিযোগ এনে গত ৬ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) মো. আজহারুল হক, মুনসুর আলম ও মতিয়ার রহমান।






মন্তব্য চালু নেই