মেইন ম্যেনু

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, মাওয়ায় ভিন্ন চিত্র

এবার ঈদে পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ও মাওয়ার ফেরিঘাটের চিত্র ছিল ভিন্ন। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ এখনও দেখা যায়নি এ দুই ঘাটে। তবে শনি ও রোববার নাগাদ এই চাপ প্রবল হতে পারে বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া নৌ-পথে পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় এ দুই ঘাটে কোন যানজট বা যাত্রী দুর্ভোগ ছিল না। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতেও কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি ঈদ ফেরত যাত্রীদের।

মাগুড়া থেকে আসা অলিয়ার রহমান ও ফরিদপুর থেকে আসা মো: বোরহান উদ্দিন নামের দুই যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় পাটুরিয়া ফেরিঘাটে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এবারের তা করতে হয়নি।

মনে হয়েছিল, ঢাকায় আসার পথে অন্তত কিছুটা সময় হলেও অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সর্ম্পূণ উল্টো চিত্র। ঘাটে বসে আছে ফেরি। বাস না থাকায় ছাড়তে পারছে না। ফরিদপুর থেকে ঢাকায় আসতে সময় লেগেছে মাত্র চার ঘণ্টা, যা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক কম।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারের জন্য ১২টি ফেরি থাকে। এর মধ্যে ২ থেকে ৪টি ফেরি থাকতো অকেজো। ফেরি স্বল্পতার কারণে ঘাটের দুই পারে লেগে থাকতো যানজট। এ বছর ঈদে ১৮টি ফেরি মোতায়েন রাখা হয়। ফেরির কোনো স্বল্পতা ছিল না। এসব কারণে কোন যানজট নেই।

পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের ম্যানেজার ( মেরিন) মো: আব্দুস সোবহান জানান, গত ঈদ ও পূজায় পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরির গতি বাড়াতে সরকার ফেরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। গত বছর এই সময় এ ঘাটে ফেরি ছিল মাত্র ১২টি। আর বর্তমানে ফেরি রয়েছে ১৮টি। এর মধ্যে ৯টি রো রো, ৩টি কে-টাইপের ও ৬টি রয়েছে ইউটিলিটি ফেরি।

১৮টি ফেরি সার্বক্ষণিক সচল থাকায় কখনই ঘাটের দুই তীরে যানজট হয়নি। ঈদেও কোন ধরনের যানবাহন চলাচলের সমস্যা হয়নি। যাত্রী দুর্ভোগও ছিল না।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটের বিআইডব্লউটিসির সহকারী ম্যানেজার শেখর চন্দ্র রায় জানান , কোন দুর্ভোগ ছাড়াই এবার লোকজন বাড়ি ফিরেছেন নিরাপদে। রাতের বেলায় নিরাপত্তার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা পার হয়েছেন ফেরিতে। এতে সময় একটু বেশি সময় লাগলেও কোন ঝুঁকিই ছিল না।
অপরদিকে ঘাটে ছিল না কোন প্রকার যানজট। অধিকাংশ সময় ফেরিগুলো গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেছে। অথচ একসময়ে ঘরমুখো বহু মানুষকে ঈদের নামাজ পড়তে হয়েছে মাওয়ায়।

জানা গেছে, আগে থেকে ছুটি থাকায় এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার কারণে এবার মাওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা তেমন একটা ছিল না। ঈদের আগের দিন মাওয়া অনেকটা ছিল ফাঁকা এবং স্বাভাবিক। যানবাহন এসেছে আর কিছু সময়ের মধ্যেই ফেরিতে উঠে গেছে।

মাওয়ায় এখন পারাপারের অপেক্ষায় তেমন কোন যানবাহনই নেই। তবে মাওয়া থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার ছন বাড়ি থেকে পারাপারের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্যবাহী দু’শতাধিক ট্রাক। দূর পাল্লার গাড়ি না পেয়ে পরে ফেরিগুলোত পণ্য বোঝাই ট্রাক পারাপার করা হয়।

ঈদ ও পূজার কারণে আগে থেকেই পচনশীল পণ্য ছাড়া ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়। তবে ঘরমুখো মানুষের পারাপারের পর এসব ট্রাক পার করা হয়। মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি রুটে ৩টি রো রো ফেরিসহ ১৭টি ফেরি স্বভাবিকভাবে চলাচল করছে।

তবে ঢাকা-মাওয়া মহসড়কের ধলেশ্বরী ব্রিজের টোল প্লাজায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. খালেকুজ্জামান জানান, ঈদে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে যাত্রী পারাপর করা হয়েছে সতর্কতার সঙ্গে। অতিরিক্ত তেমন কোন যাত্রীই নিতে দেয়া হয়নি। ঈদের কারণে রাত্র ৮টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করেছে। তবে এখন চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। সিবোট ট্রলারেও যাত্রী পারাপর করা হয়েছে সতর্কতার সঙ্গে। তাই এবার মাওয়ার চিত্র ছিল ভিন্ন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং টিমওয়ার্ক যথাযথভাবে হওয়ার কারণেই ঘরমুখো মানুষকে বিড়ম্বনাহীন পারাপার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া কর্মস্থলে ফেরা মানুষও যাতে যথাযথভাবে গন্তব্যে পৌছতে পারে সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

অপরদিকে রাজধানীর গাবতলী, শ্যামলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঢাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদের আগে যে হারে বাস ছেড়ে গিয়েছিলো, সেই হারে এখনো ঢাকায় ফিরছে না বাসগুলো। আবার অনেক বাস অল্প যাত্রী নিয়েই ফিরছে ঢাকায়।

বাড়িতে যাওয়ার সময় টার্মিনালগুলোতে যে দুর্ভোগ ছিল, ঢাকায় ফেরার পথে শুক্রবার তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

গাবতলী বাস টার্মিনালে খুলনা থেকে আসা সুন্দরবন বাস সার্ভিসের সুপারভাইজার রবিউল জানান, এখনো পুরোদমে মানুষের আসা শুরু হয়নি। আগামী রোববার থেকে যাত্রীদের চাপ শুরু হবে।

বাসযাত্রী শরিফুল জানান, ‘আমার বাসা আমিনবাজার এবং অফিস কারওয়ানবাজার। আমার অফিসে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বুধবার লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। ঢাকার রাস্তার অবস্থা যদি সব সময় এমন হতো, তাহলে অফিসে যাওয়া নিয়ে কোনো দু:শ্চিন্তাই হতো না।’






মন্তব্য চালু নেই