মেইন ম্যেনু

বরযাত্রী ৬ মন্ত্রী ও অর্ধ শতাধিক এমপি

এলাহীকান্ডে রেলমন্ত্রীর বিয়ে সম্পন্ন

কবুল বললেন রেলমন্ত্রী

কনে হনুফা আক্তার রিক্তাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করলেন রেলমন্ত্রী। সই করলেন কাবিননামায়। আর বিয়ের আসরেই পরিশোধ করলেন কাবিনের ৫ লাখ ১ টাকা। শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা তখন ৩টা ১৭ মিনিট ছুঁয়েছে। জীবনের সাতষট্টি বছর পার করা চির তরুণ রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সই করলেন কাবিননামায়। বাঁধা পড়লেন তরুণী হনুফা আক্তার রিক্তার বিনি সূতোর বন্ধনে। বিয়ের আসরে মুগ্ধতার আবেশে বুঁদ হয়ে থাকা বর রেলমন্ত্রীকে দেখে সবার মনেই ছিল আনন্দের ঢেউ। এর আগেই বরকে অভ্যর্থনা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তরুণীরা।

সবকিছুই ছিল প্রস্তুত। গেট সাজানো হয়েছিল ফুলে ফুলে। বিকেল ৩টার দিকে প্রায় সাতশ’ বরযাত্রী নিয়ে বিশাল বহর পৌঁছে যায় কনের বাড়িতে। গেটে আসতেই জামাইকে ঘিরে ধরতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্যালিকাকেও। তারা স্বাগত জানিয়ে বর নিয়ে আসেন বিয়ে মঞ্চে।

রেলমন্ত্রী বিয়ে পড়ান কাজী সিদ্দিকুর রহমান। উকিল বাবার দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত হাসেম চৌধুরী। বিয়েতে বরের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন কিবরিয়া মজুমদার। আর কনে পক্ষে ছিলেন খোকন রেজা ও ফজলুল করিম।

৩

মন্ত্রীর বিয়ের ‘এলাহীকাণ্ড’ আয়োজন চলছিল কয়েকদিন ধরে। বর পক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নে সক্রিয় ছিল প্রায় একশ’ স্বেচ্ছাসেবক। বরপক্ষে হাজার খানেক আর কনে পক্ষে দেড় হাজার অতিথির হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু তা ছাড়িয়ে যায় কয়েক গুন।

বিকেল ৩টার দিকে পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে চান্দিনার প্রত্যন্ত গ্রাম মিরাখলায় বিয়ে বাড়িতে পৌঁছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।

কুমিল্লার কয়েকজন সংসদ সদস্য, সাবেক ডেপুটি স্পিকার, পুলিশের ডিআইজি, আওয়ামী লীগ নেতসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিয়েতে অংশ নেন।

অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি, চান্দিনা আসনের এমপি সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ, লাকসাম আসনের এমপি তাজুল ইসলাম, বরুড়ার সাবেক এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাছানুজ্জামান কল্লোল, কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান, কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আফজল খান, তরুন আওয়ামীলীগ নেতা নুর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম প্রমুখ।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় কনে হনুফা আক্তার রিক্তার নিজ বাড়ি চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামের মুন্সী বাড়িতে।

বিয়ে বাড়িতে ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োজিত ছিল ছয় স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী। সেগুলোর মধ্যে বিশেষ ডিউটি পুলিশ, পুলিশের মোবাইল টিম, ডিএসবি, ট্রাফিক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের কমপক্ষে ৬০-৭০জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে পালন করছেন।

অতিথিদের খাবারের তালিকায় ছিল মুরগির রোস্ট, খাশির কাচ্চি, কোমল পানীয়, মিস্টান্ন, জর্দা এবং বোরহানী। বর জামাইয়ের জন্য ছিল বিশেষ খাবার। ছিল ১৬ কেজি ওজনের আস্ত খাশির রোস্ট।

বরযাত্রী ৬ মন্ত্রী ও অর্ধ শতাধিক এমপি

আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের আলোচিত রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের বিয়ে। এ বিয়ের আয়োজন নিয়ে বর, কনের স্বজন এবং কুমিল্লা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। বরযাত্রী হবেন নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খানসহ ৬ জন মন্ত্রী এবং অর্ধ শতাধিক এমপি।

Railway-Minister

গত কয়েকদিন রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে দেশের সর্বত্র তুমুল আলোচনা চলছে। আজ সবার দৃষ্টি থাকবে চান্দিনার প্রত্যন্ত গ্রাম মিরাখলার দিকে।

দেশের প্রথম পতাকাবাহী বর মুজিবুল হক মুজিব এমপি ও হনুফা আক্তার রিক্তার বিয়ে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামের মুন্সি বাড়িতে সম্পন্ন হবে। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ১ টাকা। বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন গল্লাই ইউনিয়নের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা কাজী মো. সিদ্দিকুর রহমান।

বিয়ে বাড়িতে ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করবে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী। সেগুলোর মধ্যে বিশেষ ডিউটি পুলিশ, পুলিশের মোবাইল টিম, ডিএসবি, ট্রাফিক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবে।

চান্দিনা থানার ওসি গোলাম মোর্সেদ জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করবেন কুমিল্লার (উত্তর)  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কুমিল্লা সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিয়ে বাড়ির প্রায় তিন শত গজ সামনে প্রথম গেইটে তল্লাশির পর অতিথিদের বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া উৎসুক কোনো ব্যক্তি বিয়ে বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না।  তার পরনে থাকবে মেরুন রঙের সেরওয়ানী। বরের সঙ্গে স্পিকার, মন্ত্রী, সচিব, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেলমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, কুমিল্লা মহানগরী, চৌদ্দগ্রাম ও ঢাকা মিলে সাত শতাধিক বর যাত্রী যাবেন।

বাড়ির সামনে তিনটি তোরণ করা হয়েছে। কনের বাড়িতে উভয় পক্ষ মিলে দেড় হাজার মানুষের খাবার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বিয়েতে কোনো প্রকার গিফ্ট সামগ্রী বা নগদ অর্থ গ্রহণ করা হবে না। বর ও ভিআইপি অতিথিদের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। ওই প্যান্ডেলেই বরের জন্য আলাদা স্টেজ। এই প্যান্ডেলের চারপাশে অতিথিদের জন্য সোফার ব্যবস্থা রয়েছে।

২

বিয়ে বাড়িতে শুধুমাত্র বরের সু-সজ্জিত গাড়ি প্রবেশ করবে। মন্ত্রীকে বহনকারী তার ব্যক্তিগত গাড়িটিই বরের গাড়ি হিসেবে সাজানো হয়েছে। বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ গেইটের পাশেই ওই গাড়িটি পার্কিং করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গেইটে কনের আত্মীয়-স্বজন ও শিশুরা বরকে অভ্যর্থনা জানাবে। এ সময় তারা কাঁচা ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া উপহার দেবেন। বরের প্লেটে আস্ত খাশি দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। এছাড়া অন্য আইটেমও থাকবে।

বিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তার আধা কিলোমিটার জুড়ে আলোক সজ্জা করা হয়েছে যা রাতে শোভাবর্ধন করেছে। বর ও ভিআইপি অতিথিদের জন্য একটি প্যান্ডেল, আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য অতিথিদের জন্য একটি প্যান্ডেল এবং খাবারের আগে ও পরে অভ্যর্থনার জন্য আরও একটি প্যান্ডেলসহ মোট তিনটি প্যান্ডেলের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অভ্যর্থনা প্যান্ডেলে তিনটি আলাদা কক্ষ করা হয়েছে। একটিতে কোমল পানীয়, একটিতে কফি এবং অপরটিতে শাহী পানের ব্যবস্থা থাকবে। ডেকোরেটরের সরবরাহ করা প্লস্টিকের চেয়ারে বসেই খাবার খাবেন অতিথিরা।

বিয়ে বাড়িতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১। এছাড়া জেনারেটরেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার কনের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা রাস্তায় ইটের সলিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

কনের খালাত বোনের স্বামী কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. লুৎফুর রেজা খোকন জানান, বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে অর্ধ শতাধিক মন্ত্রী ও এমপি আসতে পারেন। দেড় হাজার অতিথি আপ্যায়নে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। দেশি মুরগি, খাশির তৈরি কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসি দিয়ে তৈরি জালি কাবাব, শাহী জর্দা, আলু বোখারার চাটনী, বোরহানী, কোমল পানীয়, বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি। খাবার তৈরির জন্য ৫০টি খাসি, ৪শ মুরগিসহ অন্যান্য উপকরণ ইতোমধ্যে বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে গেছে। রান্নার জন্য ১৪টি চুলাও তৈরি করা হয়েছে। কুমিল্লা ক্লাবের বাবুর্চি মিল্টন রোজারিও শুক্রবার রাতে খাবার তৈরির কাজ শুরু করেছেন। খাবারের পর অতিথিদের জন্য ঢাকা থেকে আনা হয়েছে মুখরোচক শাহী পান। এছাড়া কফির ব্যবস্থাও রয়েছে।

পাঁচ লাখ এক টাকা দেনমোহরে নগদে পরিশোধ

পাঁচ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। বিয়ের আসরে তা নগদে পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে দেনমোহরের টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন কনে হনুফা আক্তার রিক্তার ভাতিজা শোয়েব আক্তার। তবে দেনমোহরে কি পরিমাণ অর্থ উসুল দেখানো হবে তা জানা যায়নি।
দুপুরে জুমার নামাজের পর রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক উপস্থিত হওয়ার পরপর শুরু হবে বিয়ের আয়োজন। মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ বিয়ের অনুষ্ঠান ও দোয়া পরিচালনা করবেন বলে জানান শোয়েব।

কনে হনুফা আক্তার রিক্তার বড়ভাই আলাউদ্দিন মুন্সি বলেন, বিয়ের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু বর আসার অপেক্ষা। বর মুজিবুল হক ঢাকা থেকে ৭০০ এর বেশি বরযাত্রী নিয়ে শুক্রবার সকাল ১১টায় রওনা হয়েছেন। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক। তারা সবাই কন্যার নিকট আত্মীয়।






মন্তব্য চালু নেই