মেইন ম্যেনু

পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী ঘাঁটি বানাতে চেয়েছিল জেএমবি

করিমপুরের বরবকপুর, বেলডাঙা, মঙ্গলকোট, পূর্বস্থলী, কীর্ণাহার কিংবা খাগড়াগড়ে ভাড়া বাড়িতে সংগঠন চালালেও পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী আস্তানার প্রস্তুতি নিয়েছিল নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। বর্ধমানকাণ্ডে মৃত জেএমবি নেতা শাকিলের স্ত্রী রাজিয়া ওরফে গুলসানা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। খবর আনন্দবাজার।
সিআইডি সূত্র জানায়, বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে দুই কাঠা জমিও নির্ধারণ হয়েছিল। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়কে কেন্দ্র করেই বর্ধমান থেকে বাংলাদেশে বিস্ফোরক ও বোমা পাচার করা হতো বলে ইতিমধ্যেই তদন্তে জেনেছে সিআইডি।
তদন্তকারীদের দাবি, জুন মাসের শেষে খাগড়াগড়ে গেলেও সেখানে শাকিল-রাজিয়াদের স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা ছিল না। তারা বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে পাকাপাকিভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অক্টোবরের শেষেই বেলডাঙায় বড়ুয়া মোড়ের জমিটি রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল। সেই জমিতে বাড়ি তৈরি করে শাকিল-রাজিয়া তাদের তিন সন্তান নিয়ে চলে যাবে বলেও পরিকল্পনা করে। সেক্ষেত্রে বড়ুয়া মোড়ই হতো জেএমবির পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ঠিকানা। ওই জমি কেনার জন্যই টাকা জোগাড় করেছিল শাকিল-রাজিয়া। রাজিয়ার কাছ থেকে যে ৪৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে, তা জমি রেজিস্ট্রির জন্য খরচ করা হতো বলে তিনি সিআইডিকে জানান।
সিআইডি সূত্রে আরো জানা যায়, এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা রাজিয়া তার বাবা আজিজুল হোসেন গাজীর কাছ থেকে গত আগস্টে নিয়ে আসে। বাকি ১৪ হাজার টাকা রাজিয়া পেয়েছিল কাওসারের কাছে ১০ থেকে ১২টি সকেট বোমা বিক্রি করে। কাওসার গত ৩০ সেপ্টেম্বর বোমাগুলো নিয়ে যায়। পরদিন ১ অক্টোবর সেই বাবদ কাওসার ১৪ হাজার টাকা তুলে দেয় রাজিয়ার হাতে। ২ অক্টোবর আরো ৫ ডজন সকেট বোমা কাওসারের হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিল। সেখান থেকেও ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যেতো। সেই টাকা দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করা হতো।
দু’কাঠা জমির দাম হিসেবে ইতিমধ্যেই দেড় লাখ টাকা শাকিল-রাজিয়া জমির মালিককে দিয়েছিল। সে সংক্রান্ত কাগজপত্রও তারা হাতে পেয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। বেলডাঙার ঘাঁটি থেকে রাজশাহী-সাতক্ষীরায় আগে যে বোমা পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকেই এই টাকা জোগাড় হয়েছিল বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা।
শাকিল-রাজিয়ার পক্ষে বড়ুয়া মোড়ের এই জমি কেনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন কালাম নামে একজন। শাকিল আহমেদের তিনটি মোবাইল ফোনও থাকতো কালামের কাছে। শাকিল যখন খাগড়াগড়ে নতুন ‘ইউনিট’ নিয়ে ব্যস্ত তখন আব্দুল কালাম বড়ুয়া মোড়ের অফিস এবং অন্যান্য দায়িত্ব পান। শাকিলরা বড়ুয়া মোড়ের স্থায়ী দপ্তরে চলে গেলে বর্ধমানের দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হতো বিস্ফোরণে আহত আব্দুল হাকিমের উপর। এমনটাই দাবি সিআইডির।
সিআইডি জানায়, বেলডাঙা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত খুব কাছে। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে আসা জেএমবি নেতারা আস্তানা গেড়েছিলেন বেলডাঙা, লালগোলা, রঘুনাথগঞ্জের আশপাশে। বেলডাঙার আস্তানা থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও সহজ হতো। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন শাকিল-রাজিয়ারা। কিন্তু খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণে সব হিসাবই ওলটপালট হয়ে যায়।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই