মেইন ম্যেনু

নীলফামারীতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগে জটিলতা

প্রজ্ঞাপন জারির দেড় বছরেও নীলফামারী জেলায় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ করা হয়নি।

নীলফামারীর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারসহ আবেদনপত্র আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের লাল ফিতায় গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছে। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ না হওয়ায় নিবন্ধন ছাড়াই ইতোমধ্যে বাল্য বিয়েসহ অন্তত পাঁচ হাজার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। যা জারি করা প্রজ্ঞাপণের পরিপন্থি।

নীলফামারী জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৭ জানুয়ারি হিন্দু বিবাহ আইন কার্যকর করার প্রজ্ঞাপণ জারি করে। এ অনুয়ায়ী জেলা রেজিস্ট্রার খলিলুর রহমান হাওলাদার দৈনিক নীলফামারী বার্তায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ছয় উপজেলায় একজন করে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের দরখাস্ত আহ্বান করেন। আবেদনপত্র যাচাই -বাছাই শেষে সৈয়দপুরের ১৪টি, জলঢাকার ১৬টি, ডোমারের ১৬টি, কিশোরগঞ্জের ৮টি ও ডিমলার ১৫টি আবেদনপত্র গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখায় পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার চাওয়া হলে ডিও লেটারসহ প্রতি উপজেলায় দু’জন করে একটি তালিকা গত ৬ মে পুনরায় পাঠানো হয়। কিন্তু আইন ও বিচার বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৌরাত্ম্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ফাইল লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে।

অপরদিকে, নীলফামারী সদর উপজেলার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক গজেন্দ্রনাথ আবেদনকারী ছাড়াও বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপত্র এনে দেয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এছাড়া ডোমারের জনৈক কর্মকারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে গোটা জেলায় এভাবে অপপ্রচার চালিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নীলফামারী জেলা রেজিস্ট্রার খলিলুর রহমান হাওলাদারকে নিয়োগে দীর্ঘ সূত্রিতার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা ডিও লেটারসহ একটি পুর্ণাঙ্গ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। নিয়োগদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যাস্ত। এক্ষেত্রে জেলা রেজিস্ট্রারের করণীয় কিছু নেই। আবেদনকারীরা নিয়োগের জন্য প্রায় দিনই রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে নিয়োগ দেরি হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে হিন্দু পরিবারগুলোতে বাল্য বিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপণ গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ না হওয়ার সুবাদে ইতোমধ্যে বাল্য বিবাহসহ অন্তত পাঁচ হাজার বিবাহ হয়েছে। যা মোটেই কাম্য নয়।’

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফিলাতির কারণে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ আটকে গেছে। এতে বাল্য বিয়েসহ অবাধে হিন্দু বিয়ে হচ্ছে। ফলে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই