মেইন ম্যেনু

নাসিরনগরে হামলা: ট্রাক ভাড়ার টাকা দেন চেয়ারম্যান আঁখি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার জন্য ট্রাক ও ট্রাক্টর ভাড়া করতে টাকা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জয়ী হওয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখিও। তাছাড়া লাঠিসোঁটা ও লোক সমাগমে কাজ করে একাধিক বর্তমান ও সাবেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম এ সব তথ্য জানিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন এবং নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম আদালতকে বলেন, ‘আমার তত্ত্বাবধানে পাঁচটি ট্রাক ভাড়া করা হয়। যার ভাড়া বাবদ দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি ৫ হাজার টাকা আমি ও আমার বন্ধুরা দেই।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানান, জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর ২৯ অক্টোবর সকালে হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় বাজার থেকে শংকরাদহ গ্রামের জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবিটি শেয়ার-ইট অ্যাপসের মাধ্যমে নিজের মোবাইলে নেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন। পরে ছবিটি কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রিন্ট করে ওই দিন রাতেই ৩০-৪০টির মতো লিফলেট করে বিলি করেন। এরপর রসরাজ দাসকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন জাহাঙ্গীর। ৩০ অক্টোবর হরিণবেড় বাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুকের নেতৃত্বে মিছিল হওয়ার পর চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আঁখি ট্রাক ভাড়া করতে জাহাঙ্গীরকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচটি ট্রাক ভাড়া করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে ট্রাকে উঠিয়ে দুপুর ১২টার দিকে নাসিরনগর সদরের উদ্দেশে রওনা হন। উপজেলা সদরে পৌঁছার পর লোকজন ট্রাক থেকে নেমে নাসিরনগর কলেজ মোড় ও স্থানীয় আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশে লাঠিসোঁটা ও লোকজনের জোগান দেন স্থানীয় বিএনপি দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানও।

সূত্র আরো জানান, জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আরো জানিয়েছেন- ২৯ অক্টোবর সকালে হরিণবেড় বাজারে রসরাজের ফেসবুকের পোস্টটি নিয়ে খালেদ মোবারক, ফারুক মিয়া, নয়ন মিয়া, ইউপি সদস্য প্রফুল্ল চন্দ্র দাস রসরাজের গ্রামের পাশের বাড়ির অনুকুল চন্দ্র দাসের ছেলে আশুতোষ চন্দ্র দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। তখন আশুতোষ জানিয়েছিলেন- ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় কে বা কারা রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে এই পোস্ট করেছে। পরদিন বিদেশ থেকে একজন লোক বিষয়টি আশুতোষকে জানান। পরে আশুতোষ রসরাজের ফেসবুক থেকে ক্ষমা প্রার্থনামূলক একটি পোস্ট দেন। রসরাজের ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড আশুতোষ জানতেন বলে জানান।

গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। নাসিরনগরের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় বিবৃতি ও দুইজন আসামির দেওয়া জবানবন্দিতে প্রায় একই তথ্য উঠে এসেছে।






মন্তব্য চালু নেই