মেইন ম্যেনু

নতুন ৪৮ টিভি চ্যানেল বিবেচনাধীন

রাত জেগে প্যাচাল পাড়ার অভ্যাস নেই : প্রধানমন্ত্রী

টেলিভিশন টক শোতে আগ্রহ নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে যমুনা টেলিভিশনের জ ই মানুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে টক শো করার আগ্রহ ব্যক্ত করলে তিনি না করে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, রাত জেগে প্যাচাল পাড়ার অভ্যাস নেই।

জ ই মানুন বলেন, যমুনা টেলিভিশনে বা আপনার এখানে (গণভবন) যেকোনো স্থানে আপনি সময় দিলে আমরা আপনাকে নিয়ে টক করতে প্রস্তুত আছি। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টক শোতে যাওয়ার আগ্রহ নেই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এশিয়া-ইউরোপ আন্তঃমহাদেশীয় ফোরামে (আসেম) যোগদান উপলক্ষে তার ইতালি সফর নিয়ে তার গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রতিবার বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

গত ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসেমের দশম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতালি যান। সম্মেলন শেষে গত ১৯ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, ‘আমাদের মিডিয়া স্বাধীনতা পাচ্ছে। এতো স্বাধীনতা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে পায় না। অবশ্য স্বাধীনতার ব্যাপারটি টিভি খুললেই দেখা যায়। টিভি চ্যানেলগুলো সব সময়ই সরকারের সমালোচনা করতে থাকে।’

তিনি জানান, এখন দেশে ২৬টি চ্যানেল চলছে, আরো বেশ কিছু পেন্ডিং রয়েছে। মোট ৪৮টি টিভি চ্যানেলের প্রস্তাব যাচাই বাছায় করে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ইতালি সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতীম অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিদের সাথে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এরপর বর্ধিত ইউরোপের জলবায়ু পরিবর্তনে অংশীদারিত্ব। ওই দিন রাতে আমি নৈশভোজে অংশ গ্রহণ করি। ওই অনুষ্ঠানে আমার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সাথে কথা হয়। পরের দিন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কট মোকাবেলায় করণীয় বিষয় নিয়ে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অগ্রগতির ব্যাপারে সবাই আমাদের প্রশংসা করেছেন। আমার সফর সঙ্গী যেসব ব্যবসায়ীরা গিয়েছিলেন তারা ওখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করেন। পাশাপশি বিনিয়োগের জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত করেন।’

যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌ ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নতী হয়েছে। দিনে এবং রাতে ঢাকা শহর ঘুরে দেখলে অবশ্যই ঢাকার উন্নতী চোখে পড়বে। পদ্মাসেতু নির্মাণ আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা নিজ অর্থায়নে সে কাজ শুরুও করেছি। ঢাকা-ময়মনসিংহ , ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন হচ্ছে। গ্রামে গঞ্জেও রাস্তাঘাট হচ্ছে। তবে যে গুলি বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে সেগুলোও ঠিক করা হবে।’

তথ্য ও প্রযুক্তি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন হয়েছে। বিল পেমেন্ট থেকে শুরু করে সব কাজ এখন মোবাইলে করা যাচ্ছে। মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির ২০০ রকম সেবা পাচ্ছে। অবশ্য এ জন্য আপনারা অলস হয়ে যাচ্ছেন। ৩জি এর কাজও বেশ ভালোভাবেই চলছে। এ দেশে ১১ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।’

শিক্ষাখাতের উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘ছিয়ানব্বইয়ে আমরা পাসের হার ৬৫ ভাগ করেছিলাম। কিন্তু পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটাকে ৪৬ ভাগে নামিয়ে এনেছিল। এবার ক্ষমতায় এসে সে হার বাড়িয়ে আবারও আমরা প্রায় ৭০ ভাগে এনেছি। আমরা মনে করি শিক্ষা আমাদের বিনিয়োগ। এই ক্ষাতে আমরা যত বেশি অর্থ ব্যয় করবো এটা ততো বেশি ফিরে আসবে। ৭৫ ভাগ মেয়েকে আমরা ব্যচেলার পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন ৬৪ ভাগ মানুষ বিদুৎ পাচ্ছে। আগামীতে ১০০ ভাগ মানুষকেই আমরা বিদ্যুতের আওতায় আনবো। নেপাল ও ভুটানের সাথে আলোচনা চলছে। মানুষের যত বেশি আর্থিক উন্নতি হচ্ছে, ঠিক তত বেশিই বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। ইনশাল্লাহ আমার তার আগেই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। জাতির জনকের যে স্বপ্ন ছিল, এই বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। সে স্বপ্ন আমরা পূরণ করেছি।’ বাঙালী কথা না বলে থাকতে পারে না।






মন্তব্য চালু নেই