মেইন ম্যেনু

তিস্তা জলবন্টনে ভারতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা চলছে, বাংলাদেশকে জানালেন সুষমা

দিলীপ মজুমদার (কলকাতা): বিতর্কিত তিস্তা জলবন্টন ইস্যুতে ভারতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা চলছে বলে বাংলাদেশ নেতৃত্বকে আশ্বাস দিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।এনডিএ সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার প্রয়াসে সুষমার বাংলাদেশ সফরে তিস্তা ইস্যুতে আলোচনা কোনদিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে নানা মহলের।বিদেশমন্ত্রী হিসাবে সফরের ক্ষেত্রে প্রথমেই বাংলাদেশকে বেছেছেন সুষমা।এদিন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলির সঙ্গে বৈঠক করেন।আলোচনা ‘ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর সফরসঙ্গী সরকারি অফিসাররা।আলোচনায় জানা গিয়েছে, সুষমা বাংলাদেশ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, ১৩ বছরের কম, ৬৫-র বেশি বয়সের বাংলাদেশীদের ভারত সফরের ক্ষেত্রে টুরিস্ট ভিসার নিয়মাবলী শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।তাদের এক বছরের বদলে ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেওয়া হবে এবার থেকে।তাছাড়া ত্রিপুরার পালাটানায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্প থেকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি

পূর্বতন ইউপিএ সরকারের আমলে ।তিস্তা জলবন্টন ও স্থলসীমান্ত চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুদেশের মধ্যে।কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল আপত্তিতে তিস্তা চুক্তি ঠান্ডাঘরে চলে গিয়েছে।এবার ঢাকা রওনা হওয়ার আগেও সুষমা মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।তাঁকে উপেক্ষা করে তিস্তা ইস্যুতে এনডিএ সরকার যে কোনও একতরফা ।সিদ্ধান্ত নেবে না, সুষমার এদিনের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই রয়েছে।এদিনের আলোচনায় বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল ।তিস্তা জলবন্টন ও স্থলসীমান্ত চুক্তি।সুষমা স্থলসীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে হাসিনাকে বলেন, বিষয়টি ভারতের সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে এবং যথাযথ গুরুত্ব দিয়েই তা দেখা হবে।

বেআইনি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র বলেন, সব ‘মৌলিক’ বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে।যদিও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, ভারতের তরফে ইস্যুটি তোলাই হয়নি আলোচনায়!

কথা হয়েছে দুদেশের জেলে আটক পরস্পরের কুখ্যাত অপরাধী, জঙ্গিদের প্রত্যর্পণ নিয়েও।আলফা নেতা অনুপ চেতিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি অপরাধী নূর হোসেনের ব্যাপারে কথা হয়েছে।সুষমার বৈঠকের সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় দলের মুখপাত্রটি বলেন, ভারত অপরাধীদের অবাধ মুক্তাঞ্চল নয় বাংলাদেশের।কোনও অপরাধী ভারতে থেকে থাকলে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সামগ্রিক ছবিটি তুলে ধরতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রটি সুষমাকে উদ্ধৃত করে বলেন, আমরা একসঙ্গে রক্ত দিয়েছি।আমাদের ভবিতব্য এক সুতোয় গাঁথা।ভারত বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।প্রধানমন্ত্রীর তরফে হাসিনাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সুষমা স্বরাজ তিনিই আজ হাসিনার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি তাঁর হাতে তুলে দেন চিঠিতে মোদি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কাঠামো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে সমৃদ্ধি, বিকাশের লক্ষ্যে যৌথ প্রয়াস গড়ে তুলতে সহযোগিতার এক ‘নয়া অধ্যায়ে’র সূচনা হবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা-বার্তা পাঠিয়েছিলেন হাসিনা।সেজন্য হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন মোদি।প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশ শুধুমাত্র প্রতিবেশীই নয়, এমন এক দেশ যার সঙ্গে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে, দুটি দেশের মানুষের মধ্যেও গভীর সম্পর্ক আছে।গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ ও আইনের শাসন ভারত, বাংলাদেশের মধ্যে যোগসূত্র হিসাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেছেন মোদি।চিঠিতে লিখেছেন, আমার সরকার।।






মন্তব্য চালু নেই