মেইন ম্যেনু

তারা তিনজনের স্মৃতিতে হুমায়ূন

ফারুক আহমেদ, এজাজুল ইসলাম এজাজ এবং স্বাধীন খসরু এই তিনজন হুমায়ূন আহমেদের নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করে ‘তারা তিনজন’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাই হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর এই তিনজন অভিনেতাকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করে অনেক নির্মাতাই দর্শক হাসাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা সফল হননি। একপর্যায়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি সম্মান রেখে তারা তিনজন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, এ ধরনের চরিত্রে তারা আর কখনও কাজ করবেন না। তবুও প্রতি ঈদে দর্শকরা অধীর আগ্রহে তাদের অপেক্ষায় থাকেন।

তারা তিনজন এখনও সমান তালে অভিনয় করে যাচ্ছেন। হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে বলেন-

স্যারের মধ্যে একটা শিশু বাস করত: ফারুক আহমেদ
হুমায়ূন স্যারের স্মৃতিচারণ করতে গেলে একটা ঘটনাই বারবার আমার মনে পড়ে। তখন শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘শ্যামলছায়া’ চলচ্চিত্রের শ্যুটি চলছিলো। ইউনিটের সঙ্গে একটা লঞ্চ ও একটা নৌকা ছিলো। হঠাৎ করেই ঝড় শুরু হয়। এমন সময় স্যার শাওনকে ডেকে বললেন, ‘আমি নৌকায় উঠবো’। যেই কথা সেই কাজ, প্রচন্ড ঝড়ের কারণে আমাদের লঞ্চটি দুলতে থাকলেও, স্যার শাওনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় উঠে মাঝিকে বললেন, মাঝ নদীতে যাওয়ার জন্যে। নৌকায় উঠেই স্যার শিশুদের মতো আনন্দে নেচে উঠলেন। কারণ স্যারের মধ্যে সবসময়ই একটা শিশু বাস করতো।

হুমায়ূন স্যার মৃত্যু নিয়ে ভাবতেন : এজাজুল ইসলাম এজাজ
মৃত্যুর কিছুদিন আগে স্যার নূহাস পল্লীতে এসেছিলেন। তখন পুকুর পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে আমাকে বলেছিলেন, ‘জানো ডাক্তার, যখন নূহাসে আসি, তখন আমার কাছে মনে হয় আমি বেঁচে আছি’।
এসময় তিনি আরো বলেছিলেন, ‘ডাক্তার, এই যে নারকেল গাছগুলো দেখছো, এখন এরা ছোট, বিশ বছর পর যখন এই গাছগুলোতে ডাব নারকেল ধরবে, তখন দেখতে কেমন সুন্দর লাগবে তাই না।’ এর পরে দেখলাম তার চোখ দুটো লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘আমার দুঃখটা কি জানো, তখন আমি আর থাকব না।’
তিনি প্রায়ই এরকম করে মৃত্যুকে নিয়ে ভাবতেন। আবার মাঝে মাঝে চুপ করে পুকুর ঘাটে বসে থাকতেন।

হুমায়ূন ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা-শেষ কথা : স্বাধীন খসরু
হুমায়ূন ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিলো ২৬ জুন ২০১২, তার ধানমন্ডির বাসায়। আমি তখন তার কাছে ‘দেয়াল’ উপন্যাসটি সর্ম্পকে জানতে চাইলাম। উত্তরে তিনি আমাকে বিশাল একটি বই দেখিয়ে বললেন, ‘হাইকোর্ট থেকে এই বইটা দেওয়া হয়েছে। এখন শরীরের এই অবস্থায় এত বড় বই পড়ে কারেকশন করা সম্ভব? ওটা বোধ হয় আর হবে না।’ আমি বললাম- আমি টেকনাফ যাচ্ছি। আপনার সঙ্গে বোধ হয় আর দেখা হবে না। আপনি তো আবার চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাচ্ছেন। আমি টেকনাফ থেকে ফিরে এসে আপনাকে পাব না। আপনি ভালো থাকবেন।’
আমার প্রস্থান দেখে হুমায়ূন ভাই পেছন থেকে ডাকলেন। আমার হাতে ‘জিরো’ নামের একটি বই ধরিয়ে দিয়ে বললেন,এটা রাখ। বইটি মূলত শূন্য নামের একটি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা-শেষ কথা।






মন্তব্য চালু নেই