মেইন ম্যেনু

ডিপিএসের কথা বলে তালাক নামায় স্বাক্ষর

সমিতির ডিপিএসের কাগজে স্বাক্ষরের কথা বলে তালাক নামায় নিরক্ষর স্ত্রীর স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে প্রতারক স্বামী। ফলে নিজের অজান্তেই স্বামীকে সাড়ে তিন মাস আগে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পৌর এলাকার হাট-ফাজিলপুর গ্রামে। এ ঘটনায় স্ত্রী শাহানারা বেগম মঙ্গলবার (২ মে) শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে স্ত্রী শাহানারা বেগম উল্লেখ করেন, তার শ্বশুর-শাশুড়ি তার উপর নানা ভাবে অত্যাচার করে আসছিলো। শাহানারা বেগমের মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। তিনি লেখাপড়া না জানায় তার স্বামী সমিতিতে ডিপিএস করার নাম করে তাকে দিয়ে একটা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। স্ত্রী শাহানারা তিন মাস দশ দিন পর জানতে পারেন সে নাকি তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। স্বামী পৌর এলাকার ফাজিলপুর গ্রামের মিলন শেখ প্রতারণা করে তালাক নামায় স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। এরপর স্বামী মিলন ছেলে ও মেয়েকে আটকে রেখে তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

পরবর্তীতে গত সোমবার তিনি ছেলে মেয়েকে দেখতে শ্বশুর বাড়ি গেলে তার স্বামী আবারও লাঠি দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এসময় তার ছেলে মেয়েকে আটকে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

আহত শাহানারা বেগম বর্তমানে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন তার যাওয়ার কোন যায়গা না থাকায় অসহায় জীবন যাপন করছেন। এঘটনায় স্বামীর সুষ্ঠ বিচার চেয়েছেন তিনি।

অসহায় স্ত্রী শাহানারা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী ভন্ড পির সেজে বাবা গনি মাস্তানের নামে কবিরপুর নতুন সেতুর পাশে সরকারি খাস জমি দখল করে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। কবিরাজি চিকিৎসা নিতে সেখানে প্রতি বৃহস্পতিবার শত শত নারী পুরুষের ঢল নামে।

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উসমান গনি জানান, তার কাছে শাহানারা স্বশরীরে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার মাথায় ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা। তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহানারার দেয়া লিখিত অভিযোগটি শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর পাঠানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই