মেইন ম্যেনু

জেনে নিন ঘামের দুর্গন্ধ হতে মুক্তির উপায়

এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। বাইরে উৎকট গরম সাথে ঘাম। আর ঘাম ও ঘামের গন্ধ একে অপরের সাথে জড়িত। গন্ধ খুবই বিব্রতকর ও বিরক্তিকর একটা বিষয়। সাধারণত ঘামের ফলে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিজনিত কারণে তাদের শরীরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। একে হাইপারহিড্রসিস বলে। আর শরীরে দুর্গন্ধ হলে আশেপাশের মানুষজনও খুব বিব্রত হয়। তবে কয়েকটি সাধারণ উপায় মেনে চললেই এইদুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেই উপায় সমূহ:

নিজেকে পরিষ্কার রাখুন:
শরীরের দুর্গন্ধ এড়াতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। অবাঞ্চিত লোম নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে যেমন ঘাম নির্গমনের সময়কার অস্বস্তি দূর হবে তেমনি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতেও বাধা দেবে। প্রতিদিন গোসল করতে হবে। গোসলের পানিতে গোলাপজল ব্যবহার করুন। এতে ঘামের পরিমাণ কমবে। কাপড় চোপড় বিশেষ করে অন্তর্বাস নিয়মিত বদলাতে হবে এবং ধুয়ে পড়তে হবে।

এন্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবান ব্যবহার করুণ:
এই গরমে ঘামের দুর্গন্ধ হতে বাঁচাতে ব্যাবহার করুণ যে কোনো এন্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবান। এতে করে আপনার ঘর্মগ্রন্থিগুলো পরিষ্কার থাকবে ও শরীরে কোনো জীবাণু থাকলে তাও ধ্বংস হবে ফলে আপনার ঘামেও আর দুর্গন্ধ হবে না।

ঘরোয়া চিকিৎসা:
পটাশিয়াম অ্যালাম নামের এক ধরনের লবণ থেকে তৈরি মিনারেল ডিওডোরেন্ট পাওয়া যায়, যা পানিতে ভিজিয়ে বগলে ডলে লাগালে ভালো কাজ দেয় । বেকিং সোডা বহু বছর থেকেই বাজে গন্ধ দূর করতে ব্যবহার হয়ে আসছে। গোসলের পর সামান্য বেকিং সোডা হাতে নিয়ে বগলে লাগালে দুর্গন্ধ আয়ত্বে রাখা যাবে।

প্রচুর পানি ও শাকসবজি গ্রহণ করুণ:
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি আপনাকে দেহের ভেতর থেকে পরিষ্কার করবে। এর ফলে ত্বকের ভেতরের ও বাইরের ব্যাকটেরিয়াগুলো দূর হয়ে যায় । যারা মাছ , মাংস , ডিম , দুধ ইত্যাদি আমিষজাতীয় খাবার বেশি খায় তাদের ঘামের দুর্গন্ধ সাধারণত বেশি হয় । তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির পরিমাণ বেশি রাখুন।

ট্যালকম পাউডার ও বডি স্প্রে:
অনেকে ঘাম কমাতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করে থাকে। এসব পাউডার ঘাম শুষে নিয়ে ত্বকে শুষ্কতা প্রদান করে। তবে এসব পাউডার ব্যবহার করার আগে দেখতে হবে তার PH লেভেল ঠিক আছে কিনা। কোনো বডি স্প্রে বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর যদি অ্যালার্জি, চুলকানি বা ফুসকুড়ি ওঠে তাহলে তা সাথে সাথে ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে হবে ।

চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া:
যাদের হাইপারহিড্রসিস এর প্রবণতা আছে তাদের চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখবেন দুর্গন্ধ হওয়ার জন্য কোনো শারীরিক সমস্যা কাজ করছে কিনা। আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে শরীরের দুর্গন্ধ হতে মুক্তি পাওয়া যাবে।

এছাড়াও সুতি কাপড় দেহকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। গরমের সময় সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন। মানসিক চাপ ঘর্মগ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। তাই নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

সূত্র: ওয়েবএমডি।






মন্তব্য চালু নেই