মেইন ম্যেনু

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি

জেএমবিকে মদদ দিচ্ছে আইএসআই

বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামা’আত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও ভারতের ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনকে (আইএম) জঙ্গি কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই)। এমন ধারণা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। আর ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে জেএমবির যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল আগেই। সেই সন্দেহ এনআইএ-এর প্রাথমিক তদন্তের পরে আরও দৃঢ় হয়েছে।
মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকায় এমন খবর প্রকাশিত হয়।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, মঙ্গলকোটের একটি মাদরাসায় গতকাল রোববার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পুস্তিকা এবং অন্যান্য নথি জব্দ করা হয়েছে। এর পর প্রায় সারা রাত সংস্থার নিজস্ব ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ওইসব নথি পরীক্ষা করে দেখেছেন। পাশাপাশি, বিস্ফোরণে নিহত শাকিলসহ আটক তিন সন্দেহভাজনের মোবাইলের কল লিস্টও পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা।
এনআইএ-র এক কর্মকর্তা জানান, ওইসব মোবাইল, বিশেষত শাকিলের মোবাইল থেকে নিয়মিত দুবাইয়ে ফোন করা এবং সেখান থেকে ফোন আসার প্রমাণ মিলেছে। সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে জেএমবি সরাসরি জড়িত থাকলেও এর পেছনে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন এবং আইএসআইয়ের পরোক্ষ মদদ রয়েছে।
একটি সংবাদসংস্থার বরাতে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এনআইএ-এর তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার নামও উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় জঙ্গি মডিউল গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগানে শাসক দলের ওই নেতা মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছেন এনআইএ কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ, গত ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোণের ঘটনায় নিহত হয়েছেন দু’জন। আব্দুল হাকিম নামে একজন আহত হয়ে কলকাতার শেঠ সুকলাল কর্নানি (এসএসকেএম) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরো দুই মহিলাসহ তিনি সিআইডির হেফাজতে ছিলেন। তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের মধ্যে তিন জনকে (হাকিম হাসপাতালে থাকায় তার জন্য আবেদন জানানো যায়নি) নিজেদের হেফাজতে নিতে সোমবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে আবেদন জানিয়েছিল এনআইএ। বিচারক তিন জনকেই ২২ অক্টোবর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে আরো বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। গত দু’দিন ধরে বিধাননগরে সিআরপিএফ-এর তিন নম্বর ব্যাটেলিয়ন চত্বরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুরোদস্তুর অফিস এবং লক-আপ তৈরি করে ফেলেছে এনআইএ। বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক তিনজন হাশেম মোল্লা, আলিমা বিবি এবং রাজিয়া বিবিকে ওই দিনই হেফাজতে পেয়েছে এনআইএ।
সংস্থাটির এক কর্শকর্তা আনন্দবাজারকে জানান, রাজ্য সরকারের আওতাধীন কোনো জায়গায় রেখে আটক তিন জনকে জেরার কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তের শুরুতেই আইএম এবং আইএসআই এর যোগসূত্র পাওয়ায় কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই এ দিন আদালত থেকে আটককৃতদের নিজেদের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশা, তাদের তিন জনকে জেরা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতেও জেএমবি জঙ্গিরা ‘মডিউল’ তৈরি করেছে। এনআইএ-র দাবি, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরে বেশ কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেভাবে প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলার প্রমাণ মিলেছে, তাতে আইএসআইয়ের ছায়া দেখছেন গোয়েন্দারা। তাদের মতে, বাংলাদেশের জেএমবির সঙ্গে আইএসআই-এর সম্পর্ক সুবিদিত। এখন দেখা যাচ্ছে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) সঙ্গেও আইএসআই-এর যোগাযোগ রয়েছে।
আননন্দবাজরে দাবি, প্রধানত ভারত-বাংলাদেশ এবং ভারত-নেপাল সীমান্তে জেএমবি ও আইএম এর সাহায্যেই শক্তি বাড়াচ্ছে আইএসআই। এনআইএ-এর কলকাতা শাখার পুলিশ সুপার বিক্রম খালাটে বলেন, ‘আমরা সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত করছি। কারণ, এখন বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী একে-অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে।’
বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছ থেকে তিন জনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতের শরণাপন্ন হয় এনআইএ। চিকিৎসাধীন আব্দুল হাকিমের নিরাপত্তা নিয়ে বিচারকের সামনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনআইএ-এর আইনজীবী। নগর দায়রা আদালতের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারক গোপালচন্দ্র কর্মকার ওইদিন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) এবং এসএসকেএম হাসপাতালের সুপারকে হাকিমের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। সুপারকে বলা হয়, চিকিৎসক-নার্স-তদন্তকারীরা ছাড়া আর কেউ যেন হাকিমের কাছে না যেতে পারে।
ওইদিন দুপুর ১২টা নাগাদ আলিমা, রাজিয়া এবং হাশেমকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। আলিমা এবং রাজিয়া আদালতে পৌঁছান তাদের দুই শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে। বেলা দু’টো নাগাদ এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ তিন অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়ার আবেদন জানান। বিচারককে তিনি জানান, বর্ধমানের খাগড়াগড়ে যে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার ব্যাপকতা আন্তর্জাতিক। এনআইএ-র সন্দেহ, ষড়যন্ত্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ নথি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার জন্যও আটকৃকতদের হেফাজতে নেয়া দরকার।
ওইদিন অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি। ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারক একতরফা শুনানি শুনেই তিন অভিযুক্তকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এনআইএ এর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।






মন্তব্য চালু নেই