মেইন ম্যেনু

জানাজায় ছিলেন না জামায়াতের আমির-সেক্রেটারি

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ ও সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা দলের সাবেক আমির গোলাম আযমের জানাজায় শরিক হননি। ২০ দলীয় জোটের কেউ কেউ উপস্থিত হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ ছিলেন না।

শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমের দাফন সম্পন্ন হয়। মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা আর ভাইয়ের কবরের মাঝখানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর ১টায় তার মরদেহ জানাজার জন্য মগবাজারের বাসা থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নেয়া হয়।

এদিকে গোলাম আযমের মৃত্যুতে গতকাল শুক্রবার শোক প্রকাশ করলেও জানাজায় অংশ নেয়নি কওমি মাদরাসাভিত্তিক খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা।

জামায়াতের আকিদা নিয়ে বিরোধিতা ও নেতিবাচক বক্তব্য দিলেও জানাজায় শরিক হয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন। অংশ নিয়েছেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান।

এছাড়াও খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসহাক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তজা, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামিক পার্টিরচেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন প্রমুখ জানাজায় শরিক হন।

তবে পুলিশের চোখে পলাতক আসামি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম, মহানগর নায়েবে আমির হামিদুর রহমান আযাদ, মহানগর সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল জানাজায় শরিক হননি।

যদিও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া থাকা সত্ত্বেও জানাজায় শরিক হয়েছেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান। সংগঠনের নেতাকর্মীদের শক্তিশালী নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে বায়তুল মোকাররম চত্বরে জানাজায় অংশ নেন এই দুই নেতা।

এছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় কমপরিষদ সদস্য এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, মজলিসে শূরার সদস্য ডা. রিদওয়ানুল্লাহ শাহেদি, মহানগর সহকারি সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মহানগর নেতা মোবারক হোসাইন, মশিউর রহমান, শিশির মুহাম্মদ মুনিরসহ অনেকে জানাজায় অংশ নেন।

এছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াসির আরাফাত, শাহীন আলম, মনির আহমদ, জামাল উদ্দীনসহ ঢাকা মহানগর জামায়াতসহ ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীরা জানাজায় শরিক হন।

গোলাম আযমের লাশবাহী গাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে করে নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দেন অসংখ্য মামলার আসামি সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দীন।

এদিকে গোলাম আযমের মৃত্যুতে শোক না জানানোর পাশাপাশি জানাজা এড়িয়ে গেছে জামায়াতের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সঙ্গী বিএনপি। দলটির অঙ্গসংগঠন ওলামা দলের মাওলানা আবদুল মালেক ছাড়া মূল দলের কাউকেই গোলাম আযমের জানাজায় দেখা যায়নি।

জানাজায় শরিক হওয়া প্রায় সবাই জামায়াত-শিবির এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী। সারা দেশ থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা এসেছেন জানাজায় শরিক হতে। জামায়াত নেতা উবায়দুল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কেবল জিয়াউর রহমানের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে গোলাম আযমের জানাজায়। তার জানাজায় শরিক লোকই প্রমাণ করে তিনি কত জনপ্রিয় ছিলেন।’

গোলাম আযমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোলাম আযমের জানাজায় বড় ছেলে মামুন আল আযমী ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) কাজে তুরস্কে ব্যস্ত থাকায় দেশে আসেননি। দ্বিতীয় ছেলে আমিন আল আযমী লন্ডনে রয়ে গেছেন। তৃতীয় ছেলে আবদুল্লাহিল মোমেন আযমী, পঞ্চম ছেলে নোমান আল আযমী, ছোট ছেলে সালমান আল আযমী দেশে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় বাংলাদেশের দূতাবাস কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করায় তারা দেশে ফিরতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে দেশে বাস করা চতুর্থ ছেলে সাবেক সেনাকর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাবার জানাজা নামাজ পড়িয়েছেন। বক্তব্য দিয়েছেন বাবা গোলাম আযমের পক্ষ থেকেও। জানাজা শুরুর আগে তিনি জমায়েতের উদ্দেশে বলেন, কোনও ভুল করে থাকলে তার বাবাকে ক্ষমা করা দিতে। পাশাপাশি তার বাবার মৃত্যুতে ইসলামি আন্দোলনের কোনও ক্ষতি হবে না বলেও উল্লেথ করেন।

এছাড়া গোলাম আযমের স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তারের ভয়ে দেশে আসেননি। এমনকি দলের একটি বড় অংশ জানে না, তিনি কোন দেশে আছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, গোলাম আযমের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, এক সময়ে তার বন্ধু হিসেবে পরিচিত এমনকি জামায়াত ঘরানার কোনো প্রবীণ বুদ্ধিজীবীও তার জানাজায় আসেননি। তবে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, দৈনিক সংগ্রামের প্রধান প্রতিদবেদক সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, কবি আবদুল হাই শিকদার, সঙ্গীতশিল্পী ও নিজামীর জামাতা সাইফুল্লাহ মানছুর, মশিউর রহমান, মুসলিম লীগের আতিকুর রহমান, বিভক্ত লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানকে জানাজায় শরিক হতে দেখা গেছে।

এদিকে গোলাম আযমের দাফনের সময় মগবাজারের পারিবারিক কবরস্থানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের পক্ষ থেকে গোলাম আযমের স্মরণে মগবাজারে বাসার সামনে একটি শোক বই খোলা হয়েছে। স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা বইয়ে লিখতে পারবেন বলে জামায়াতের প্রচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই