মেইন ম্যেনু

ছাত্রদল নিয়ে বিব্রত খালেদা, সিদ্ধান্ত দেবেন ফখরুল-আব্বাস

বিএনপি চেয়ারপারসন ‘বেআইনি’ভাবে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন যে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন তা নিয়ে ছাত্রনেতাদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে চরম বিব্রতবোধ করছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

ছাত্রদল পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসানকে নিয়ে বৈঠক করেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চরম বিব্রতবোধ করছেন বেগম খালেদা জিয়া। আর সে কারণেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

বৈঠকের বিষয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বাংলামেইলকে বলেন, ‘ছাত্রদলের জটিল পরিস্থিতি সমাধানের পথে। এ কমিটি নিয়ে সরকার সুযোগ খুঁজছে এবং সেটা তারা নিয়েছেও। কিন্তু সরকার যেন আর সুযোগ নিতে না পারে তা নিয়ে সতর্ক আছি। পুলিশের ভূমিকা, কার্যালয়ে ককটেল ফাটানো, এর সঙ্গে আমাদের পদবঞ্চিতদের কর্মকাণ্ড নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি ছাত্রদল নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাবে। যে লেভেলে কমিটি হয়েছে পদবঞ্চিত সিনিয়রদের ছাত্রদল করার সুযোগ নেই। তারা বিএনপি বা অন্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনে জায়গা পাবে। এটা নিয়ে তারা ভুল বুঝছে। তবে জুনিয়র যারা আছে তাদের ছাত্রদল করার সুযোগ রয়েছে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতি সমাধন নিয়ে এ্যানী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মির্জা আব্বাস পদবঞ্চিতদের বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা পার্টি অফিসে থাকবেন, সবার সঙ্গে কথা বলবেন। তারাই যে কোনো লেটেস্ট সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর যদি কেউ সংগঠন পরিপন্থি কাজ করে তাহলে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে।’

পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম রয়েল বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘বিকেলে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে। যদি আমাদের দাবি না মানা হয় তাহলে সন্ধ্যা থেকেই আবারো অবস্থান কর্মসূচি।’

এদিকে রোববার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় ফকিরেরপুল থেকে নয়াপল্টনে সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষের সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় দু’টি ককটেল বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। ভেতরে অবস্থানরত মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হয়ে পড়েন অবরুদ্ধ।

এরপর সন্ধ্যায় আলোচনার জন্য পদবঞ্চিত ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে কার্যালয়ে ডেকে নেন ফখরুল। ওই নেতাদের তিনি জানান, তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে রাতেই আলাপ করা হবে। সেই বিবেচনার আশ্বাসে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান স্থগিত করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

পদবঞ্চিতদের দাবি, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পদত্যাগ এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই