মেইন ম্যেনু

লালমনিরহাটের কিছু খবর

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতিতে লালমনিরহাটে হিন্দু পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকী

চাঁদা দাবীর দেড় লাখ টাকা অস্বীকৃতি জানায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মারপুকুর ইউনিয়নের দেবনাথ পাড়ায় একটি হিন্দু পরিবারকে শ্মশানে জীবন্ত আগুনে পুড়ে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।
সন্ত্রাসীদের দেয়া হুমকীতে আতংকে কাটছে হিন্দু পরিবারটির লোকজনের। স্থানীয় এক আ’লীগ নেতার কাছে বিচার প্রার্থী হয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় ওই হিন্দু পরিবারটি গত সোমবার রাতে আদিতমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে। কিন্ত পুলিশ রহস্যজনক কারনে মামলাটি রেকর্ড করেনি আর নেয়নি কোন আইনগত ব্যবস্থা।
স্থানীয় লোকজন আর হিন্দু পরিবারটি জানায়, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে হিন্দু পরিবারটির অভিভাবক যোগেশ চন্দ্র দেবনাথ (৫৭) কে বাড়ীতে ধরে নিয়ে স্থানীয় শ্মশানে বেধে রাখে সন্ত্রাসীরা। পরে উমর ফারুক ওরফে দিবসের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা যোগেশকে বেদম মারধর করে এবং দেড় ঘন্টা পরে দেড় লাখ চাঁদার টাকা পরিশোধের তাড়া দিয়ে ছেড়ে দেয় তাকে। ২১ ডিসেম্বর দুপুরে সন্ত্রাসীরা ওই হিন্দু পরিবারটির বাড়ীতে এসে চঁদার টাকা দাবী করে। এসময় হিন্দু পরিবারটি প্রতিবাদ জানালে সন্ত্রাসীরা যোগেশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী তুলসি বালা ও দুই ছেলে স্বপন দেবনাথ ও তাপস দেবনাথকে মারধর করে। এলাকাবাসী ছুটে এসে তাদেরকে সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে রক্ষা করে।
”আমাকে শ্মশানে উঠায় নিয়ে মারডাং করে আর বলে ব্যাটা চাঁদার টাক্ াদিলে শ্মশানে বাড়ীর সবাইকে উঠায় নিয়ে এসে জীবন্ত পুড়ে মেরে ফেলবো। বাড়ীতে আমাকে ও বাড়ীর সবাইকে মারপিট করে চাঁদার টাকার জন্য,” এমনটি জানালেন যোগেশ চন্দ্র দেবনাথ।
”আমাকে মারডাং করে আর শরীরে পরনের কাপড় ধরে টানা হেচড়া করতে থাকে। আমার স্বামী ও আর দুই ছেলের সামনে উলঙ্গ করার অপচেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা,” এমনটি কান্নার স্বরে বললেন যোগেশের স্ত্রী তুলসি বালা দেবনাথ।
যোগেশের দুই ছেলে স্বপন দেবনাথ ও তাপস দেবনাথ জানালেন, উমর ফারুক দিবস আর রফিকুল ইসলাম ভুযা স্ট্যাম্প তৈরী করে তাদের বাবার কাছে চাঁদা দাবী করছে। আর চাঁদার টাকা তুলতে তারা তাদের ৮/১০ সন্ত্রাসীর সঙ্গ নিয়ে হামলা হুমকী অব্যাহত রেখেছে। ”সন্ত্রাসীরা স্থানীয় আ’লীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় পুলিশ কোন ধরনে আইনী ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে যাচ্ছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা এলাকায় বাস করতে পারবো না,” বললেন স্বপন দেবনাথ।
স্থানীয় জাহেদ আলী জানান, তারাই হিন্দু পরিবারটিকে সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে রক্ষা করেছেন। যোগেশ চন্দ্র দেবনাথ একজন সহজ সরল ও কৃষক। তার ২০/২১ বিঘা জমি আবাদ করেই সংসার চালান আর এলাকায় কখনও কোনদিন অসৎ ও ছলচাতুরি কোন কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে তিনি জানান।
অপর এলাকাবাসী নুর ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান জানালেন হিন্দু পরিবারটি উপর হামলা ও হুমকীকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এভাবেই এলাকার মানুষকে হয়রানী করে আর ভুয়া কাগজ তৈরী করে চাঁদাবাজি করে।
অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের হোতা উমর ফারুক ওরফে দিবস’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
তবে আদিতমারী উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলম হোসেন জানান তিনি বিষয়টি জানেন আর মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।
আদিতমারী থানার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, এতদ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি বললে ঘটনাস্খল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
আদিতমারী থানার ওসি কপিল উদ্দিন জানান, তিনি বিষযটি জানেন না তবে বিষয়টি জেনে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

পাটগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী নারী সদস্যের ৬ মাস কারাদন্ডভ্রাম্যমান আদালত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর এলাকার আমিনা খাতুন (৪৭) নামের এক মাদক স¤্রাজ্ঞীর ৬ মাস কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার সকালে আমিনা খাতুনকে লালমনিরহাট কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি পাটগ্রাম পৌর এলাকার রসুলগঞ্জ স্টেশন কলোনীর জরিমুদ্দিনের স্ত্রী।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফজলুল হক অভিযান চালিয়ে ৪শ গ্রাম গাঁজাসহ রসুলগঞ্জ স্টেশন কলোনীর মাদক স¤্রাজ্ঞী আমিনা খাতুনকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারিক হাকিম রফিকুল হকের আদালতে সোপর্দ করলে স্বাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে তাকে লালমনিরহাট কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন।
পাটগ্রাম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফজলুল হক জানান, ‘বুধবার সকাল ১১টায় মাদক ব্যবসায়ী আমিনা খাতুনকে লালমনিরহাট কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।’

তেল চুরির ঘটনায় ট্রেনের চালক ও পরিচালক বরখাস্ত
ট্রেনলালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রেনের তেল চুরি করে বিক্রির প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষুপ্ত জনতা লালমনিরহাট হতে বুড়িমারীগামী একটি ট্রেন আটকিয়ে দেয়। এ সময় ওই ট্রেনের চালক ও পরিচালককে হাতীবান্ধা স্টেশন মাস্টারের রুমে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুপ্ত জনতা। এ ঘটনায় বুধবার ওই ট্রেনের চালক রশিদুল ইসলাম মানিক ও পরিচালক মইনুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ট্রেনের যাত্রীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে জেলার কাকিনা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ইঞ্জিনের কাছে গিয়ে দেখতে পায় চালক রাশেদুল ইসলাম মানিক ও পরিচালক মইনুল হকের উপস্থিতিতে ওই ট্রেনের তেল চুরি করা হচ্ছে। এ সময় কামরুল ইসলাম নামে এক কলেজ ছাত্র ছবি তুলতে গেলে তার মোলাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধোর করা হয়। পরে খবরটি সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে পরলে পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষুপ্ত জনতা ট্রেনটি আটকিয়ে দেয় এবং চালক ও পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা পরিচালক ও চালককে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে রেলওয়ের পরিবহণ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান অভিযুক্ত পরিচালক ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত ১১ টার দিকে ট্রেনটি ছেড়ে দেয় বিক্ষুপ্ত জনতা।
এদিকে তেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই ট্রেনের চালক রশিদুল ইসলাম মানিক ও পরিচালক মইনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে যান্ত্রিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই