মেইন ম্যেনু

চলচ্চিত্রের মানুষ হুমায়ূন

বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রেও হুমায়ূন আহমেদ এক অতি পরিচিত নাম। ১৯৯৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিনি মোট আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সকল চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের টনক নড়িয়ে দিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, হমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রে একদিকে যেমন রয়েছে মুন্সিয়ানা তেমনি আছে এর চিন্তার গভীরতা। শনিবার এই গুণী মানুষটির দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। তার জীবদ্দশায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন।

প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’র মাধ্যমে হুমায়ূন বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রও মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখে। তাই হয়তো মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান নূর যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, তখন দর্শকের চোখের কোন দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। জীবনে প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আটটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করা সহজ বিষয় নয়।

দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, গ্রামীণ প্রেমের আনন্দ-বেদনা নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি গানের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। চলচ্চিত্রটিতে ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’ শিরোনামে সুবীর নন্দীর গাওয়া গানটির গীতিকার ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ নিজেই। এই চলচ্চিত্রটিও ছয়টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘দুই দুয়ারী’। এই চলচ্চিত্রটি তার অন্য দুইটি চলচ্চিত্র থেকে একটু আলাদা। কারণ এখানে একটি পরিবারে একজন রহস্য মানবের আগমন ও প্রভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়েই চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে। ‘দুই দুয়ারী’ মোট তিনটি ক্যাটাগরীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

চতুর্থ চলচ্চিত্র ‘চন্দ্রকথা’, এটিও গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন সমাজের শোষণ প্রক্রিয়া সর্ম্পকে। চলচ্চিত্রটির প্রায় সবগুলো গানই হুমায়ূন আহমেদ রচনা করেন।‘শ্যামল ছায়া’ হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিপ্রকাশ ঘটেছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একটি নৌকায় বিভিন্ন ধর্মের এবং পরিচয়ের মানুষ কিভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তা ফুটিয়ে তোলা হয়।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ একমাত্র বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে আমারা হুমায়ূন আহমেদকে পরিচালানার পাশাপাশি একজন শিল্প নির্দেশক ও নৃত্যপরিচালক হিসেবে আবিস্কার করি।

২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন তার সপ্তম চলচ্চিত্র ‘আমার আছে জল’। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে লাক্স তারকা বিদ্যা সিনহা সাহা মীমের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হয়। তার অন্যান্য চলচ্চিত্রের মতো, এখানেও প্রাধান্য পায় গান। পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির লোকেশনেও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ছাপ স্পষ্ট।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’। হাওড় অঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের জীবনধারা আর সমাজের উচুতলার মানুষের আনন্দের বলি কমলাকে কেন্দ্র করেই গড়েই উঠেছে চলচ্চিত্রটির কাহিনী। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নিয়ে প্রশংসা অর্জন করে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই