মেইন ম্যেনু

প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা !

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিজয় মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া আসর

কক্সবাজারের উখিয়ায় সুবিধাভোগী কতিপয় সরকারদলীয় নেতারা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উদযাপনের নামে প্রতিনিয়ত আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার মত অশ্লীল নৃত্যের আসর বসিয়ে এক বেহায়াপনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে। উপজেলার অধিকাংশ লোকজন দরিদ্র হওয়ায় জুয়া, পুতুল নাচ, র‌্যাফেল ড্র, সাবান খেলা, চাক্কা খেলা, মৃত্যুকোপসহ বিভিন্ন লোভনীয় অবৈধ খেলা চালিয়ে ওই সুবিধাবাদী চক্রটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী এ বিজয় মেলা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে সরজমিনে মেলা পরিদর্শন করে জানা গেছে এসব তথ্য। কতিপয় থানা পুলিশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ মেলা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়াড়ি এস কামালের নেতৃত্বে আসরে দস্তাদস্তির ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে।
গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ বিজয় মেলায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির থেকে ওই আওয়ামীলীগ কতিপয় নেতারা টাকার বিনিময়ে উঠতি বয়সের রোহিঙ্গা তরুণী ভাড়া করে নৃত্যের আসর বসিয়েছে। অবশ্যই এসব অবৈধ জুয়া ও উলঙ্গ নৃত্য বানিজ্যের নেপথ্যে রাজাপালং এলাকার উত্তর পুকুরিয়া গ্রামের কুখ্যাত পেশাদার জুয়াড়ী এস কামাল বলে জানা গেছে। রাত এলেই জুয়ার আসরের পাশা-পাশি মদ্যপায়ীদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে উঠছে স্থানীয় লোকজন। অভিযোগ উঠেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে বেলাল নামে এক যুবক ইয়াবা সেবন ও মদ্যপয় অবস্থায় মেলার দর্শনার্থী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে। এধরণের অহরহ অভিযোগ থাকার স্বত্বেও আইন শৃংখলা বাহিনী ওই মেলা বন্ধ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে এলাকা সচেতন মহলের অভিযোগ।
আর মাত্র ক’দিন পরেই এসএসসি ও দাখিল সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিকে বিজয় মেলা মাস ব্যাপী চলমান থাকলে পরীক্ষার্থী ছাত্র/ছাত্রীরা পড়া-লেখা বাদ দিয়ে বিপদগ্রস্থ হওয়ার পাশা-পাশি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে অভিভাবক মহল। রতœাপালং ইউনিয়নের ইউসুফ আলী নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে এবারে এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু সে রাতভর উক্ত বিজয় মেলার জুয়া, অশ্লীল নৃত্যের আসরে মগ্ন হয়ে থাকে। এতে তার পড়া-লেখার চরম বেঘাত ঘটছে। এধরনের আরো শত শত পরীক্ষার্থী ছেলে-মেয়েদের পিতা-মাতার অভিযোগের শেষ নেই।
উক্ত মেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানের কথা বলা হলেও বৃহস্পতিবার রাতে গিয়ে দেখা যায়, ওখানে কোন ধরণের স্মৃতিচারন অনুষ্ঠান হয়নি। প্যান্ডেলের ভিতরে পুর্বপাশে পুতুলের নাচের নামে জ্যান্ত পুতুল নাচিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাশে সাবান ও চাক্কা খেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্ররা লাইন ধরে দাঁিড়য়ে এ খেলায় সর্বশান্ত হচ্ছে। উত্তর পাশে মৃত্যুকুপে মোটর সাইকেল খেলার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। মধ্যবর্তী এলাকায় লোভনীয় পুরুষ্কারের কথা বলে র‌্যাফেল ড্র চলছে। পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে ৬ টি জোয়ার আসর বসিয়ে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে অনৈতিক কর্মকান্ড। এভাবে চলছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী ওই মেলার সার্বক্ষনিক পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের পকেটে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকের কার্ড। স্থানীয়রা বিজয় মেলার নামে এসব অবৈধপনা দ্রুত বন্ধ করা না হলে এলাকার আইন শৃংখলা অবনতির পাশা-পাশি উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা অপসংস্কৃতির রাহুগ্রাস থেকে রক্ষা পাবে না। এছাড়াও ২০০৮ সালে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত তৎকালীন বিজয় মেলায় মুন্না নামের এক ১৩ বছরের শিশুকে রাতের আধারে মেলা থেকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করার পর উখিয়া রেষ্ট হাউসের পিছনে ঢোবায় লাশ পুতিয়ে রাখে। রতœাপালং ইউনিয়নের আয়োজিত এ বিজয় মেলায় এধরণের ঘটনার কোন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কি না সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনকে অবৈধপনার বন্ধের জন্য এলাকাবাসীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয় মেলা পরিষদের আয়োজক কমিটির সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরী মেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানালেও পরে রাতের বেলায় দেখা যায় তিনিই অশ্লীল নৃত্যের মঞ্চে উঠে টিকেটবিহীন প্রবেশকারীদের বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলে আয়োজকদের সহযোগিতার জন্য দর্শনার্থীদের আহবান জানান। বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির মহাসচিব পরিমল বড়ুয়া অসুস্থ থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি।






মন্তব্য চালু নেই