মেইন ম্যেনু

‘এ রকম ছাত্রলীগ তো আমরা দেখি নাই’

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সম্মেলন উপলক্ষে পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের স্লোগান উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্য নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সম্মেলন শুরুর আগ থেকেই নেতা-কর্মীদের বারবার এ বিষয়ে সতর্ক করেন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এবং সঞ্চালক আজিজুল হক রানা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যর্বিাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

বক্তব্য দিতে এসে এমনই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এরকম ছাত্রলীগ তো আমরা দেখি নাই। তোমরা কি এখানে স্লোগান দিতে এসেছো। না বক্তব্য শুনতে এসেছো। যদি বক্তব্যের মাঝে স্লোগান দিতে থাক তবে আমি বক্তব্য না দিয়ে চলে যাব ।’

তার আগে বক্তব্য দেয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এবিষয়ে সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, এরপর প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্যের মাঝে কেউ স্লোগান দেবেন না।

তারপরও নেতা-কর্মীরা তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য দিতে শুরু করলে অনবরত স্লোগান দিতে থাকে।

এ ছাড়াও সম্মেলনের শুরুর দিকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ৫১টি সিসি ক্যামেরার (ক্লোজ সাক্রিট ক্যামেরা) ভয় দেখিয়ে ধমক দিয়ে সতর্ক করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে তোফায়েল বলেন, তিনি ৯২দিন অবরোধ-হরতাল, অরাজকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে এখন চুপ-নিরব ও স্তব্ধ রয়েছেন।

তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) ৯২দিন অবরোধ-হরতালের নামে মানুষ হত্যা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে পারবেন ততক্ষণ ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। তিনিই কোর্টে হাজিরা দিয়ে আত্মসমর্পন করে ঘরে ফিরে গেছেন। তাই এখন তিনি চুপ হয়ে গেছেন।

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের বিজয় হয়েছে এমন উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, কারণ খালেদা জিয়া এখন উপলব্ধি করতে পেরেছেন আন্দোলনের পথ এটা নয়।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন, মিছিলসহ সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলনের প্যান্ডেল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে। এরপরও বিভিন্ন ইউনিট থেকে উত্তর শাখার নেতা-কর্মীরা মিছিলসহ সম্মেলনস্থলে হাজির হতে শুরু করে। তার মধ্যে অনেকে প্যান্ডেলের মধ্যে জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে।

আজকের প্রথম অধিবেশন শেষে আগামী ৩০ মে নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা।

প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। এরপর মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আগত অতিথিদের ব্যাজ পরিয়ে বরণ করে নেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, প্রাক্তন ছাত্রনেতা লিয়াকত শিকদার, তাসভিরুল হক অনু প্রমুখ। সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

এর আগে ২০১১ সালের জুনে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।






মন্তব্য চালু নেই