মেইন ম্যেনু

চরম লোকসান আতঙ্কে পাট চাষিরা

উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়েনি পাটের দাম

বাংলার সোনালী আঁশ নামে পরিচিত নতুন পাট এখন চাষিদের ঘরে উঠতে শুরু করেছে কিন্তু পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে শার্শা উপজেলার পাট চাষিরা। তাদের অভিযোগ উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়ছে না পাটের দাম। এদিকে কৃষি অফিসের পাট পচানোর আনুনিক প্রযুক্তি রিবন রেটিং মেশিন ( রিবনার ) সাশ্রয়ী না হওয়ায় সেটিও কৃষকেরা ব্যবহার করতে পারছে না। এতে লাভতো দূরের কথা লোকসানের পরিমান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। এদিকে ভালো দাম পেতে হলে কৃষকের জাগ দেওয়া পদ্ধতি পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ভালো জাতের পাট বীজ সংগ্র করার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলার চাষিরা জানান, এরই মধ্যে পাট শুকিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে তারা কিন্তু গেল বছরের মতো এবছরেও পাটের আবাদ করতে খরচ বাড়লেও সে অনুযায়ী দাম বড়েনি। সব খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ১১ থেকে ১২শ টাকা। বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১১ থেকে ১৩শ টাকায়। আর এরকম অবস্থায় চরম লোকসানের আতঙ্কে দিন পার করছে পাট চাষিরা। শার্শা উপজেলার রামপুর ধলদা গ্রামের পাট চাষি হাসেম আলী সাংবাদিকদের জানান, কৃষি বিভাগ উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবর্তে পাত্রের পানিতে পাট পচানোর আধুনিক প্রযুক্তি রিবনার পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেও তা তাদের এলাকায় এখনও চালু হয়নি। মেশিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এ মেশিনে কাঁচা পাটের ছাল/আঁশ ছাড়াতে ৩৫ জন মজুর লাগে। ছাল ছাড়ানোর আগে পাতা ফেলতে লাগে আরও ১০ জন। মজুরি প্রতি ২৫০ টাকা করে। ৪৫ জনের মজুরি দিতে হয় ১১ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে পাট পচিয়ে ছাল চাড়াতে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। এক কথায় সাশ্রয়ী না হলে কোনো প্রযুক্তিই গ্রহণযোগ্য হবেনা বলে মনে করেণ চাষি হাসেম আলী। শার্শা উপজেরা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেবাশিষ কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, শার্শা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে রিবনার প্রযুক্তিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য মেশিন দেওয়া আছে যে কেউ চাইলে সেখান থেকে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবে। এ প্রযুক্তি পাটের উন্নত আঁশ সংগ্র, পরিবেশ দূষণ রোধ, মশা প্রতিরোধ ও মাছের ক্ষতি এড়াতে কার্যকর প্রমাণিত কিন্তু সাশ্রয়ী না হওয়ায় কৃষকেরা তা ব্যবহার করতে পারছে না। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার এ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৫ হাজার ২০০ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে।






মন্তব্য চালু নেই