মেইন ম্যেনু

উল্টোপথে হাঁটছে বাংলাদেশ : অজয় রায়

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় মনে করেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের যাত্রা ছিল প্রগতির পথে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল সেখানে। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদের আগ্রাসনে বাংলাদেশের চিরচেনা সে চেহারা আজ অনেকটাই বিবর্ণ। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয়করণের চেষ্টায় সে অগ্রযাত্রা থমকে গিয়ে হঠাৎই যেন উল্টোপথে হাঁটছে বাংলাদেশ।খবর চ্যানেল আই’র

দুই বছর আগে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে নিহত বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা বলেন, ‘আদর্শিক এবং চরিত্রগত দিক থেকে বাংলাদেশ উদার, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং জঙ্গিবাদের হানায় প্রগতির পথে অগ্রসর না হয়ে বাংলাদেশ হাঁটছে বিপরীত দিকে।’

বইমেলা থেকে ফেরার পথে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন অভিজিৎ। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

আজীবন যে বাংলাদেশের স্বপ্ন অজয় রায় দেখেন, যে দেশের জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে ছেলে অভিজিৎকে– এখন তার সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে।

‘উগ্রবাদীরা এখনও অপকর্ম করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে মন্দিরের পুরোহিত, গীর্জার পাদ্রিসহ ১০-১২ জনকে খুন করা হলো। একটার পর একটা অপকর্ম করেই যাচ্ছে তারা। জঙ্গিরা টার্গেট করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। এমন অবস্থাতো চলতে পারে না।’

কণ্ঠে হতাশার সুর থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এ অধ্যাপক দেশের এমন অবস্থা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারকে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান।

উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তথা পাঠ্যপুস্তক সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে ‘হেফাজতের ব্যবস্থাপত্রে’ পাঠ্যপুস্তকে ‘সাম্প্রদায়িকীকরণের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার কোন ধর্ম হয় না। শিক্ষা হতে হবে উদার এবং মানবিক। শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে পরমসহিষ্ণুতা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। কিন্তু তা না করে যদি তাদেরকে শুরু থেকেই সাম্প্রদায়িক শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে তার ফল ভালো হওয়ার কথা নয়।’

সুদীর্ঘ বছর দেশের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা অজয় রায়ের মতে, গণতান্ত্রিক দেশ থেকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে একটি ‘মিনি ইসলামীতন্ত্র’ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানীকরণের একটি ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর উচিত শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে বলা। শিক্ষামন্ত্রীর কোন দায় পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।’

ছেলে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের দুই বছর কেটে গেলেও সেই মামলার বিচারে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। তারপরেও বিচারের আশায় আছেন প্রবীণ এ অধ্যাপক।

‘আমি আশাবাদী মানুষ। আমি আশা করছি বিচার পাবো। আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী আমাকে জানিয়েছে তারা এ মামলার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে। যদিও আদালতে এখনও দাখিল করেনি। তারপরও আমি মনে করি গত দুই বছরে অভিজিতের মামলার এটুকুই অগ্রগতি।’

অভিজিৎ নিহত হওয়ার পরের দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন তার বাবা। গত বুধবার ছিল সেই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন না দেয়ায় আাগামী ২৭ মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে ১৬ বার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছানো হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ওই ঘটনায় জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আবুল বাশার নামের একজন মারা গেছে। বাকি সাত আসামি হলো তৌহিদুর রহমান, শফিউর রহমান ফারাবী, সাদেক আলী মিঠু, আমিনুল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস, জাফরান হাসান ও মান্না ইয়াহিয়া মান্নান রাহী।

গত বছরের ১৯ জুন রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক যুবক নিহত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, নিহত ওই যুবকের নাম শরিফ ওরফে মুকুল। সে অভিজিৎ রায়সহ কয়েকজন ব্লগার হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন।






মন্তব্য চালু নেই