মেইন ম্যেনু

ইফতার-ঐতিহ্যে সাজছে চকবাজার

পুরান ঢাকার ইফতার বাজার নিয়ে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন, ‘ইফতারের সময় চোখ পড়ে থাকত সিতারা মসজিদের বারান্দায়। শুধু মনে হতো ওই মুড়ি, ফুল্লুরি, দোভাজা, ছোলা আর বেগুনি মেশানো খাবারটা যেন রূপকথার দেশ থেকে এসেছে।’

সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে রোজা। প্রতিবছরের এবারও রোজা উপলক্ষে সাজছে চকবাজার। শামসুর রাহমানের সেই ‘রূপকথার দেশের’ ইফতার এবারও পাওয়া যাবে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে।

চকবাজারের এই ইফতারের গল্পটা আসলে ৪শ বছরের পুরোনো। এই পুরো সময়টাতেই এই ইফতারের নামডাকও ছিল দেশজুড়েই। যুগ যুগ ধরে ইফতার তৈরির একই ধারা এখানে চলে আসছে। সুতি কাবাব, জালি কাবাব এখন সেখানে তৈরি হয় সেই মুঘল ধাচে। আস্ত মুরগির রোস্ট, কবুতর রোস্ট, বটি কাবাব, জালি কাবাব, সুতি কাবাবের পাশাপাশি অন্যবারের মতো এবারও চকবাজারে থাকবে খাসির কাবাবও। ঠিক যেন কবি শামসুর রাহমানের বর্ণনার সঙ্গে মিল রেখেই ইফতার তৈরি করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনাম খাসি, টারকি বিফ, কাশ্মীরি শরবত, অ্যারাবিয়ান কাবাবসহ আরও অনেক ধরণের খাবারের সম্ভার থাকছে এবার তাদের ইফতার আয়োজনে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শাহি হালিম যার প্রতিটির দাম বড় হাঁড়ি ৩৫০ ও ছোট হাঁড়ি ১৫০ টাকা। ডিসেন্ট এবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে ২শ টাকার টারকি বিফ, কাশ্মীরি শরবত লিটার প্রতি ২০০ টাকা, নিমকপাড়া প্রতিপিস ২০ টাকা, মুঠি কাবাব প্রতিটি ২০ ও অ্যারাবিয়ান কাবাব প্রতিটি ৮০ টাকা করে।

এছাড়াও এবার চকে পাওয়া যাবে আবদুল জব্বারের বিখ্যাত শাহী দইবড়া। ২০টি দইবড়ার বাটি বিক্রি হবে ২০০ টাকায়।

চকবাজারের মজাদার অন্যান্য আইটেমের মধ্যে আরও রয়েছে ১৫ টাকা প্রতিপিসের ডিম চপ, কচুরি এক কুড়ি ৩৫ টাকা, ফুল্লুরি পিস ২ টাকা, সমুচা প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকা, পনির সমুচা প্রতি পিস ৫ টাকা, পেঁয়াজু প্রতি পিস ৪ থেকে ৫ টাকা, আলুর চপ পিস ৫ টাকা, বেগুনি পিস ৪ থেকে ৫ টাকা, চানাবুট কেজি ১৩০ টাকা, ডাবলি কেজি ৫০ টাকা, মুরগির রোস্ট প্রতি পিস ১৫০-১৮০ টাকা, খাসির পায়ের রোস্ট পিস ৩০০ থেকে ৩৫০ ও সাসলিক পিস ৩০ টাকা।

এছাড়া ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের প্রতি প্যাকেট এ বছর ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চকবাজারের পাশাপাশি ধানমণ্ডির স্টার কাবাব, লাজিজ, এইচএফসি, ফখরুদ্দীন, পিন্টু মিয়ার শাহী ইফতারি, কলাবাগানের মামা হালিম, হটহাট, অলিম্পিয়া প্যালেস, আম্বালা, খাজানাসহ থাকছে নামী-বেনামী অসংখ্য ইফতারির দোকান।

এদিকে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’ খ্যাত হাজী শহীদ বাবুর্চিও থেমে নেই। সোমবার থেকে রোজা শুরু তাই তার ব্যস্ততাও এখন তুঙ্গে। ইফতারের প্রস্তুতি পর্ব নিয়ে হাজী শহীদ বাবুর্চি ব্যস্ত থাকায় কথা হয় দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এটি পুরান ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার। তৈরি হয় ৩৬ প্রকারের উপকরণ আর ১৮ রকমের মসলা দিয়ে। যা খুব সহজেই রোজদারদের সারাদিনের খাবারের পুষ্টি জোগায়।’

প্রসঙ্গত, অনেকের মতে ঢাকার বয়সের সমান চকবাজারের ইফতারির বাজার। তাদের মতে, ১৭০২ সালে ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁ চকবাজারকে আধুনিক বাজারে পরিণত করেন। তখন থেকেই প্রতি রমজানে চকবাজারে জমকালো ইফতারি বাজার বসে। সেই থেকে আজও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে।






মন্তব্য চালু নেই