মেইন ম্যেনু

অভিবাসী নিয়ে মিয়ানমারের লুকোচুরি

সাগরে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শতাধিক অভিবাসী নিয়ে নানা লুকোচুরি, কৌশল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে মিয়ানমার।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসী বাংলাদেশি বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু বিজিবি বলছে, উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ থাকলে তাদের স্বদেশে ফেরত আনা হবে।

এদিকে এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হওয়াদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র হাতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার। এরই মধ্যে মিয়ানমারের বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরসহ নানা অপপ্রচার চালানো হয়। যা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ২১ মে সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ২০৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে মিয়ানমারের নৌ-বাহিনী। উদ্ধার হওয়ার পর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এদের মধ্যে দুইশ জন বাংলাদেশি রয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের প্রধান কর্নেল মো. খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৪ মে মিয়ানমার যাওয়ার কথা ছিল। এ প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা।

কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ উদ্ধার হওয়ারা বাংলাদেশি এবং এদের বাংলাদেশে ফেরত নিতে হবে দাবি করে। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার যাওয়া স্থগিত করে এবং উদ্ধার হওয়াদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মিয়ানমারের সীমানরক্ষী বাহিনীর কাছে চিঠি পাঠায়।

কিন্তু ওইদিন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যে তালিকা পাঠায় তা ছিল বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ। ওই তালিকাটি ঐদিনই বিজিবির সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আরেকটি চিঠি পাঠায় বিজিবি।

এ ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা বিজিবির কাছে পাঠায়নি বলে জানিয়েছেন বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই আলোচনার সিদ্ধান্ত মতে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ থাকলে তাদের স্বদেশে ফেরত আনা হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিবিসির অন-লাইন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে উদ্ধার হওয়া ২০৮ জনের অধিকাংশই ওই দেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির। যাদের বাংলাদেশি দাবি করে ফেরত পাঠানোর কৌশল নিয়েছে মিয়ানমার।

এরমধ্যে মিয়ানমারের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে উদ্ধার হওয়াদের বাংলাদেশে ফেরত আনতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে একটি সংবাদও পরিবেশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বিষয়টি পুরোটাই মিয়ানমারের অপপ্রচার মাত্র। বাংলাদেশের পক্ষে এনিয়ে কোনো প্রকারের সমঝোতার সত্যতা মেলেনি।

এদিকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মিয়ানমার বর্ডার পুলিশের এক নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তরে নিয়ে আনার খবর পাওয়া গেছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন জানিয়েছে, উখিয়া উপজেলার বালুখালী সীমান্ত থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের ঢেঁকুবনিয়ায় মিয়ানমার বর্ডার পুলিশের এক নম্বর সেক্টরের এ সদর দপ্তর। ওখানে গত ২৭ মে থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলেও আনুণ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজী হননি কেউ।






মন্তব্য চালু নেই