মেইন ম্যেনু

‘অভিজাত’ প্রতারক এক নারী

চলনে-বলনে তার আভিজাত্যের চিহ্ন। হাতে দামি মোবাইল ফোনসেট, পোশাকেও জৌলুস। থাকেন উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায়। কেনাকাটা করেন গুলশান-বনানীর নামকরা শপিংমল আর সুপারশপে। খাবারও সারেন অভিজাত সব রেস্তোরাঁয়। নগদ টাকায় নয়; সবকিছু কেনেন ডেবিট কার্ড আর ক্রেডিট কার্ডে। তিনি একজন নারী। তার নাম জুবায়েদা সুলতানা। এই নারী অভিজাত এলাকার অভিজাত প্রতারক। ‘বিয়েবাড়ির ভয়ঙ্কর অতিথি’ চক্রের একজন তিনি।
প্রতারক জুবায়েদা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠনে অতিথি সেজে প্রবেশ করেন। খাওয়া-দাওয়ার ফাঁকে সুযোগমতো অন্য নারীর ব্যবহৃত পার্টস বা কারও ম্যানিব্যাগ হাতিয়ে নেন। এরপর তাতে থাকা ব্যাংক কার্ড নিয়ে দ্রুততম সময়ে কেনাকাটা করেন। কৌশলে গহনার বাক্স নিয়েও কেটে পড়েন। গুলশান থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে এই প্রতারক নারীকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ বলছে, শুক্রবার ‘বিয়েবাড়ির ভয়ঙ্কর অতিথি’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরের সেই ভয়ঙ্কর অতিথিদের খুঁজতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে ওই নারী। বিভিন্ন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান এলাকার কয়েকটি অনুষ্ঠানস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে গুলশান ক্লাবে এক নারীর দামি মোবাইল ফোনসেট হাতিয়ে নেওয়ার সময় আটক হয় প্রতারক জুবায়েদা সুলতানা।

রাজধানীর বনানী থেকে অভিজাত একটি রেস্তোরাঁ থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ জুন বিকেলে রেস্তোরাঁর একটি টেবিল থেকে একটি পার্টস নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন জুবায়েদা। এর পরই ৫০ মিনিটের মধ্যে গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত সুপারশপ অস্টোরিয়াম, অভিজাত শপিংমল শপার্স ওয়ার্ল্ড, আর্টিশান ও ফার্মেসি প্লাস নামে পৃথক চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে পৌনে দুই লাখ টাকার কেনাকাটা করেন তিনি।

গুলশান থানায় জুবায়েদা সুলতানা সমকালকে বলেন, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল থেকে নানা কৌশলে ব্যাংক কার্ড হাতিয়ে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তা দিয়ে কেনাকাটা করে ফেলেন। প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের নিত্যপণ্য কেনেন। পরে নিজের ব্যবহারের জন্য কিছুটা রেখে তা বিক্রি করে দেন। কপাল ভালো থাকলে ডেবিট কার্ডে গোপন পিন নম্বর লেখা পেলে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা তুলে নেন।

জুবায়েদা জানান, তিনি রাজধানীর একটি কলেজ থেকে স্নাতক করেন। এরপর ২০০৬ সালে বিয়ে করলেও ২০১০ সালে স্বামী মারা যান। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে একটি বাড়িতে থাকেন। মাসে ১২ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া আর নিজের সংসার চালাতে প্রতারণার পথ বেছে নেন। এর আগে তিনি আরও দুই দফা এ ধরনের প্রতারণা করেন। ২০১৩ সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তিন মাস কারাগারে ছিলেন।

কারাগার থেকে বের হয়ে আবারও কেন প্রতারণার পথ বেছে নিলেন জানতে চাইলে জুবায়েদা বলেন, কারাগার থেকে কেউ ভালো হয়ে বের হতে পারে না। কারাগারে থাকতে কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তিনি কারাগার থেকে বের হন। ওই টাকা পরিশোধ করতেই আবার তিনি আগের পথে ফিরে আসেন।

গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৭ জুন বনানীর কেএফসি থেকে একজন বিচারপতির স্ত্রীর পার্টস হাতিয়ে নেন জুবায়েদা। এরপর পার্টসে থাকা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে মাত্র ৫০ মিনিটে পৌনে ২ লাখ টাকার শপিং করেন। টিস্যু পেপার থেকে শুরু করে, ডাল, চাল, জিরা, পোশাক এমনকি হাড়ি-পাতিলসহ ১০০ ধরনের আইটেম কেনাকাটা করেন জুবায়েদা।

ওসি জানান, এ নারী ছাড়াও তার গ্রুপে আরও সদস্য রয়েছে। যারা বিভিন্ন বিয়ে-বৌভাত এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি বেশে প্রবেশ করে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। জুবায়েদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।






মন্তব্য চালু নেই