মেইন ম্যেনু

সমস্যা যখন ফ্ল্যাট ফুট

মানুষের পা স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম। পায়ের পাতার ২৬ টি হাড়, ৩৩ টি জয়েন্ট, ১০৭ টি লিগামেন্ট এবং ১৯ টি পেশী একসাথে কাজ করে সারা শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য। দাঁড়ানো, হাঁটা, দৌড়ানো, খেলাধুলা করা বা নাচ ইত্যাদি কাজগুলো আমারা করতে পারি পায়ের পাতার কারণেই। স্বাস্থ্যকর চরনযুগলই হচ্ছে সক্রিয় জীবনধারার মূল চাবি। মাটি ও বালুর মত প্রাকৃতিক পৃষ্ঠে হাঁটার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে মানুষের পদ যুগল। কিন্তু আমরা এর পরিবর্তে শক্ত পৃষ্ঠ যেমন- রাস্তা বা মার্বেলের তৈরি মেঝেতে হাঁটি। এ কারণেই পায়ের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। পায়ের একটি সমস্যার নাম ফ্ল্যাট ফুট । ফ্ল্যাট ফুট কী, কেন হয় এবং এর লক্ষণ ও চিকিৎসার বিষয়ে জানবো এই ফিচারে।

ফ্ল্যাট ফুট কী?

আমরা যখন দাঁড়াই তখন আমাদের পায়ের পাতার ভেতরের দিকে কিছুটা অংশ উঁচু থাকে। পায়ের পাতার মধ্যের এই উঁচু অংশ যখন দেখা যায়না তখন তাকে ফ্ল্যাট ফুট। সব মানুষই সমতল পদযুগল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশু যখন হাঁটতে শুরু করে তখন পায়ের পাতার খিলান বা আর্চ তৈরি হতে শুরু করে। শিশুর ৫ বছর বয়স এই খিলান গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গবিন্যাসে ফ্ল্যাট ফুটের প্রভাব

আমাদের শরীরের সবগুলো জয়েন্ট একসাথে কাজ করে। যেহেতু পদযুগল হচ্ছে আমাদের শরীরের ভিত্তি তাই শরীরের সামগ্রিক ভঙ্গি প্রভাবিত হয় এর দ্বারা।

ফ্ল্যাট ফুটের কারণ

– লিগামেন্টের শিথিলতা

– পেশীর দুর্বলতা বা হাইপোটোনিয়া অফ মাসেল

– গোড়ালির চারপাশের জয়েন্টে আঘাত পেলে এবং টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্থ হলে

– পারিবারিক ইতিহাসের কারণে হতে পারে ফ্ল্যাট ফুটের সমস্যা

ফ্ল্যাট ফুটের লক্ষণ

– ক্লান্ত পা

– পায়ের গোড়ালিতে, হাঁটুতে ও পিঠে ব্যথা হওয়া

– বারবার গোড়ালি মচকানো (ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা)

– জয়েন্টগুলোতে প্রারম্ভিক অষ্টিওআরথ্রাইটিস হওয়া

– পায়ে কড়া পড়া

ফ্ল্যাট ফুটের চিকিৎসা

অর্থোটিক্স – অর্থোটিক ডিভাইস ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হতে পারে। তবে এটি ব্যবহারের আগে বয়স, ওজন ও সমস্যার তীব্রতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এজন্য একজন পডিয়াট্রিস্ট ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবেন।

সহায়ক জুতা – ফ্ল্যাট ফুট এর সমস্যা আছে যাদের তাদের দৃঢ় গোড়ালির জুতা ব্যবহার করা উচিৎ। সবচেয়ে ভাল হচ্ছে স্পোর্ট শু ব্যবহার করা।

এক্সারসাইজ – পায়ের পাতা ও গোড়ালির পেশী শক্তিশালী করার জন্য পায়ের ব্যায়াম করুন।

ওজন – ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।






মন্তব্য চালু নেই