আওয়ার নিউজ এক্সক্লুসিভ
৩২৬ ফুট উচ্চতায় হাজার হাজার টনের জাহাজকে কিভাবে তোলা বা নামানো হয় দেখুন ( ভিডিও )

এক্সট্রিম এঞ্জিনিয়ারিং
এর আগে এক্সট্রিম এঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে একটা আপডেট দিয়েছিলাম যেখানকার সাবজেক্ট ছিল পানামা খাল যার উচ্চতা ছিল ৮৫ ফুট, চেম্বার ৩ টি। আজ বলব এমন একটি এঞ্জিনিয়ারিং এর কথা যার উচ্চতা ৩২৬ ফুট । মানুষ কিভাবে মহাসাগরের স্রোত, পানির চাপকে নিয়ন্ত্রন করেছে তার বিবরন এ এঞ্জিনিয়ারিং।
কল্পনা করুন মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। মাত্র ৩০/৩৫ ফিট উচ্চতায়। আরো কল্পনা করুন মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের নীচে একটি নৌকা আছে। আপনার দায়িত্ব হবে এই নৌকাটিকে ৩৫ ফিট উপরের পানিপ্রবাহে পাঠানো। আপনি হয়ত দড়ি বেঁধে চেষ্টা করলেন, হয়ত পারলেনও কিন্তু যখন দুই প্রান্তের পানিপ্রবাহ ও স্তর যদি হয় আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর আর জাহাজটি হয় কয়েক হাজার টনের তখন?
সেই প্রাচীন কাল থেকে মানুষ সমুদ্রে পন্য এবং অন্যান্য পরিবহনের কাজে জাহাজ ব্যবহার করছে। আর এই জাহাজ চলাচলের জন্য নির্মান করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। এর মধ্যে প্রধানতম একটি হচ্ছে কৃত্রিম খাল নির্মান করা। এই খাল গুলো নির্মান করা হয় মুলত জাহাজ পরিবহনের জন্য যার করনে এগুলো যথেস্ট গভীর এবং প্রশস্ত করে নির্মান করা হয়। আরো কিছু কারন আছে যেমন
১) জাহাজ গুলো চলাচলের জন্য একটি সর্টকার্ট তৈরি করা যাতে সময় এবং জ্বালানী দুটোই বাঁচানো যায়।
২) দুট স্থল বেষ্টিত জলভাগের (হ্রদ, সমুদ্র) মধ্যে লিংক তৈরি করা।
৩) একটি সাগর থেকে আর একটি সাগরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য।
৪) এবং অবশ্যই আর্থিক ভাবে লাভবান হবার জন্য।
এর মধ্যে কিছু কিছু খাল সমুদ্র পানির উচ্চতা থেকে অনেক বেশি উচ্চতায় থাকে। ফলে জাহাজকে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে খালের পানির উচ্চতায় উঠানোর জন্য এক ধরনের স্থাপনা ব্যবহার করা হয়। এদরেকে শিপলক বলা হয়।
পানামা খালের এক্সট্রিম এঞ্জিনিয়ারিং।
লক হচ্ছে জাহাজ গুলোকে বেশি উচ্চতা থেকে কম উচ্চতায় নামানো বা উঠানোর জন্য নির্মিত একটি স্থাপনা। এগুলোতে পানির আর্কিমিডিসের সুত্রটি ব্যবহার করা হয়। প্রথমে জাহাজ গুলো কে একটি কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করানো হয়। তারপর তার পানির উচ্চতা হাইড্রোলিক প্রেসারের মাধ্যমে কমানো বা বাড়ানো হয় যাতে তা পরবর্তি কম্পার্টমেন্টের সমান উচ্চতায় আসে। আর এভাবেই জাহাজ গুলোকে এক উচ্চতা থেকে আর এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
Welland Canal
———————————————
এই খালটি কানাডাতে অবস্থিত। কানাডার লেক ওন্টারিও এবং লেক এরি এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এর ঠিক পাশেই রয়েছে নায়াগ্রা ফল। ৪২ কিলোমিটার(২৬ মাইল) দির্ঘ এই মানুষ নির্মিত কৃত্বিম খালটি শুরু হয়েছে পোর্ট ওয়েলার এবং শেষ হয়েছে পোর্ট কোলবর্ন। কানাডা এবং আমেরিকার কাছে খালটির গুরুত্ব অপরিসিম কারন নায়াগ্রা ফলের মত এত উচু নিচু সারফেস সম্বলিত নদী জাহাজ চলচলের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এটিই জাহাজ গুলো অতি দ্রুত এপার ওপার করার একমাত্র উপায়।
প্রায় ৪ কোটি টন পন্য প্রতি বছর এই পথে হাজার হাজার জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন হয়। এর সর্ব দক্ষিন প্রান্ত যা লেক এরি তে অবস্থিত তা ৩২৬ ফুট উচু অন্য প্রান্ত থেকে। এই দুই প্রান্ত এর মধ্যে উচ্চতা এই বিশাল ব্যবধান এর কারনে ব্যাবহার করা হয় আটটি লক। এই লক গুলো বিশাল এই খালে বিভিন্ন অংশে উচ্চতা অনুসারে ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মোট চারটি ধাপে এই খালটি কাটা হয়। William Hamilton Merritt প্রথম ১৮২৪ সালে তার watermill গুলো চালানোর জন্য এই খাল টি খনন কার্য শুরু করেন। ১৮২৯ সালে এই প্রথম অংশটি পরিক্ষামুলক ভাবে চালু করা হয়। এর পর ১৮৩৭ সালে দ্বিতীয় বার , ১৮৮৭ সালে তৃতীয়বার এবং ১৯৩২ সালে চতুর্থ বার এর কাজ করা হয় যা এখনও রয়েছে। এখন অবশ্য এর পন্চম ধাপের কাজ শুরু করার ব্যপারে পরিকল্পনা চলছে।
ছবিতে দেখানো হয়েছে খালটির দুই পাসের উচ্চতার পার্থক্য। এটিতে সর্বোচ্চ ৭৪০ ফুট লম্বা জাহাজ চলতে পারবে। এর গড় গভীরতা ৩৫ ফুট । কোন জাহাজের উচ্চতা ১১৬ ফুট এর বেশি হতে পারবে না।
খালটির কিছু লক
এবার পুরো প্রক্রিয়াটা দেখুন ভিডিওতে
[ লেখকঃ এস এম সাইফ রহমান ]
মন্তব্য চালু নেই