যে ১০ টি কাজ শিশুকে স্মার্ট হতে সাহায্য করে

বিজ্ঞানীরা প্রায়ই বলে থাকেন যে শিশুর প্রথম ১০ বছর হচ্ছে তার ‘সুযোগের জানালা’ বা ‘Window of opportunity’ । এই সময়ে একজনের মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটানো বেশ জটিল। পড়াশুনা করলে শিশুর বুদ্ধিমত্তার উন্নতি ঘটে যাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু খেলাধুলা করলে বা ভিডিও গেম খেললেও একই রকম উপকারিতা পাওয়া যায় শুনলে আপনি নিশ্চয়ই চমকে যাবেন! এ ধরনের বেশীরভাগ কাজই বয়স্কদের জন্যও উপকারী। শিশুকে স্মার্ট হতে সাহায্য করে যে কাজগুলো সেগুলোর বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

১। গান শেখা

গবেষণায় বলা হয়েছে যে, গান শিখলে শিশুরা অনেক বেশি স্মার্ট হয়। গানের শিক্ষার্থীরা গড়ে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে এবং সার্বিকভাবে অনেক বেশি জিপিএ অর্জন করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিয়ানো শিখলে আইকিউ বৃদ্ধি পায় তাৎপর্যপূর্ণভাবেই।

২। ভালোভাবে নাস্তা করা

শিশুর মস্তিষ্কের জন্য সঠিক পুষ্টি উপাদান যেমন- গ্লুকোজ, আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, জিংক এবং ফলিক এসিড এর ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। যে শিশুরা সকালে ভালোভাবে নাস্তা করে তাদের স্মৃতিশক্তি ভালো হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ বজায় রাখতে পারে। একেবারে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ পান করলে স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিমত্তার উন্নতি হয়।

৩। ভিডিও গেম খেলা

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণা মতে, ভিডিও গেম খেললে বিভিন্ন দক্ষতার উন্নতি হয় যেমন- হাত ও চোখের সমন্বয়, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সম্পদের ব্যবস্থাপনা, দ্রুত চিন্তা ও প্রতিক্রিয়া, স্মৃতিশক্তি, স্থানিক উপলব্ধি, বিচার করার ক্ষমতা, নির্ভুল হিসাব, যুক্তি ইত্যাদি।

৪। টিভি দেখা সীমিত করা

যেকোন জিনিসই অতিরিক্ত হওয়া ভালো না। শিশুদের টিভি দেখে সময় অতিবাহিত করার চেয়ে সামাজিক দক্ষতার উন্নতি ঘটানো এবং হোমওয়ার্ক করা প্রয়োজন। দেখা গেছে যে, ২ বছরের ছোট শিশুদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে টিভি দেখা কোন উপকারিতা দিতে পারে না।

৫। ইচ্ছেমত খেলাধুলা

একটি শিশুর শিশু হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে অনির্দিষ্ট খেলাধুলা। এছাড়াও শিশুর গঠনের জন্যও খেলাধুলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পিতামাতার অবহেলা বা অতিরিক্ত যত্ন ও শিশুর মানসিক সমস্যার জন্য দায়ী। মুক্তভাবে খেলাধুলা করলে শিশুর জ্ঞানীয় এবং সামাজিক দক্ষতার উন্নতি ঘটে। এর ফলে সে সুখি ও স্বাস্থ্যবান হয়ে গড়ে উঠে।

৬। ২০ মিনিটের ব্যায়াম

একটি সুইডিশ গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ব্যক্তির শারীরিক ফিটনেস তার আইকিউ এর সাথে সম্পর্কিত। এই গবেষণার জন্য ১৮ বছর বয়সের ১ মিলিয়ন কিশোর উপর জরিপ চালানো হয়। ব্যায়াম কীভাবে মস্তিষ্কের গঠন ও বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি টেস্টের পূর্বে ৯ ও ১০ বছর বয়সের শিশুদের ২০ মিনিট ব্যায়াম করার ফলে তাদের ভালো স্কোর পেতে সাহায্য করে।

৭। সন্তানের সাথে পড়া

পড়াশুনা শিশুর বুদ্ধিমত্তার উন্নতিতে সাহায্য করে করে তা সবাই জানেন। যে শিশুরা বেশি বেশি পড়ে তাদের মধ্যে লেখা ও সংখ্যার দক্ষতা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। যে বাবা-মায়েদের সময় কম তারা তাদের সন্তানকে বেশী করে বই কিনে দিন এবং যে সময়টুক পান তা সন্তানের সাথে বই পড়ে কাটানোর চেষ্টা করুন।

৮। তাড়াতাড়ি ঘুম

ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক গ্রুপ এসআরআই ইন্টারন্যাশনাল এর করা এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যায় যে শিশুরা তারা অন্য শিশুদের চেয়ে ভাষা, গণিত এবং পড়ায় অনেক বেশি ভালো করে। প্রি-স্কুলের শিশুদের অন্তত ১১ ঘন্টা এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ১০ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

৯। চেষ্টার প্রশংসা করুন বুদ্ধির নয়

আপনার শিশু হয়তো স্মার্ট, কিন্তু তার সাফল্যের জন্য সে যে চেষ্টা করেছে তার জন্য প্রশংসা করুন। যে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রশংসা করা হয় তারা মনে করে যে এটা তাদের জন্য নির্ধারিত। তাদের কোন ভুল বা ব্যর্থতা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করে। যে শিশুদের চেষ্টার প্রশংসা করা হয় তাদের শেখার প্রতি ফোকাস বেশি থাকে এবং তারা কোন চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায় না বা ব্যর্থতার পরে আবার চেষ্টা করতে পিছপা হয় না।

১০। অন্য ভাষা শিক্ষা

পূর্বের গবেষণায় দেখা গেছে যে, দুটি ভাষায় দক্ষ শিশুরা চাপের মধ্যেও ভালো ফোকাস করতে পারে। এখনো গবেষণা চলছে, কিন্তু অনেকেই এটা বলেন যে, বয়ঃসন্ধিকালের পূর্বে ভাষা শিক্ষার ক্ষমতা বেশি থাকে। দেখা গেছে যে ছোট শিশুরা অনেক নিখুঁতভাবে ও সাবলীলভাবে নতুন ভাষা শিখতে পারে।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার



মন্তব্য চালু নেই