রিকশাচালক রেজা আইএইচটির ছাত্র

অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে শত বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে এবং নিজের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সড়ক থেকে সড়কে রিকশা নিয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলোজিতে (আইএইচটি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রেজয়ানুল কবির রেজা।
ছোট বেলায় করতোয়া নদীর সর্বনাশা থাবায় নিজেদের মাথা গোঁজার একমাত্র বসতঘর, ফসলি জমি হারিয়েছেন। অভাবের তাড়নায় গত ৭/৮ বছর আগে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কুলানন্দনপুর গ্রাম থেকে তার বাবা আসেন নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়।
চাটখিল পৌরসভার ১১নং পোলের গোড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা নেন রেজার বাবা। এখানে থেকে রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ বহন করেন তিনি। প্রতি মাসে উর্পাজনকৃত টাকা পাঠিয়ে দেন গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। ওই টাকার কিছু অংশ দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষনের পাশাপাশি নিজ ছেলেদের লেখা পড়া চালিয়ে যান তার ‘মা’ রেনুজা খাতুন।
বাবার একার আয়ে তার মাকে হিমশিম খেতে হয়। ২০১৩ সাল থেকে রেজা স্কুল বন্ধ হলে চাটখিলে এসে বাবার সঙ্গে রিকশা চালাতো। তবু ও গত বছর রেজা দিনাজপুরের স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৪.৬৩ (এ গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
পরে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলোজিতে (আইএইচটি) ভর্তি হন তিনি। কিন্তু বাবার একা উপার্জনে পরিবার ও তার লেখা পড়ার খরচ বহন করা সম্ভব হয়না। তাই কলেজে ছুটি পেলে বাবার সঙ্গে এসে রিকশা চালান চাটখিলের বিভিন্ন সড়কে।
কথা হয় এই সংগ্রামী ছাত্র রেজয়ানুল কবির রেজার সঙ্গে। রেজা জানান, ‘বাবার একার আয়ে আমাদের পরিবার, পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত দুই ভাই ও আমার লেখা পড়ার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তাই সুযোগ পেলে বাবাকে সহযোগিতা করতে রিকশা চালানোর মতো কঠোর পরিশ্রমে নেমে পড়ি। আগামী জানুয়ারি ২০১৫ সালে আমার ক্লাস শুরু হবে তখন লেখা পড়া করতে রংপুরে ফিরে যাবো। পরবর্তীতে ছুটি পেলে আবার চাটখিলে ফিরে এসে বাবার সঙ্গে রিকশা চালিয়ে টাকা উপার্জনে নেমে যাবো।’
মন্তব্য চালু নেই