‘ওরা সাত জন আর আমি একা, যেই আটকানোর চেষ্টা করলাম সেই ওরা আমার…

এরকম ঘটনা শুধু যে রুনির(পরিবর্তিত) সঙ্গেই ঘটেছে তাই নয়, এরকম হাজার হাজার রুনি ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের চারপাশে৷ কেউ মুখ খুলেছে, প্রতিবাদ করেছে৷ কেউবা অন্ধকারের চাদরে মুড়ে নিয়েছে নিজেকে৷ কেউবা সর্বশক্তি দিয়ে এই জগতের মায়া ত্যাগ করে শেষ করে দিয়েছে নিজেকে৷

এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায় রুনির জীবনে৷ আর পাঁচটা মেয়ের মতোই ১৬বছরের রুনি ছিল প্রাণোচ্ছল, হাসি-খুশি, মিশুকে৷ কিন্তু তাঁর সৌন্দর্য, তাঁর উচ্ছ্বল স্বভাবই যে একদিন তাঁর বিপদ ডেকে আনবে, তা বোধ হয় সে কল্পনাও করে উঠতে পারেনি৷ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান রুনির বন্ধু বান্ধবের সংখ্যা বরাবরই বেশি৷ বিশেষ করে সোশ্যাল সাইটে তাঁর বন্ধুত্বের সংখ্যা যে কোনো সেলিব্রিটিকেও যেন হার মানায়৷

এরকমই জনপ্রিয় রুনি একদিন টিউশনি পড়ে সন্ধেবেলা বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিল৷ ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে, ঠান্ডা হাওয়ায় পরিবেশটাই অন্যরকম হয়ে উঠেছিল৷ আবহাওয়া খারাপ থাকায় রাস্তায় তেমন লোকজন ছিল না৷ হঠাৎই রুনি দেখল দূরে বেশ কিছু জটলা, ছয় সাতজনের একটা দল যেন কিছু কথা বলছে নিজেদের মধ্যে৷ আস্তে আস্তে রুনি দেখল, তারা রুনির দিকেই এগিয়ে আসছে৷ দূরত্ব ক্রমশই কমতে থাকল৷ রুনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাতজনের দলটি রুনির মুখ চেপে ধরে পাশের গলিতে নিয়ে চলে গেল৷ যেখান থেকে রুনির বাড়ির দূরত্ব মেরেকেটে দু’মিনিটের৷

রুনির মুখ চেপে ধরে একের পর এক তারা পাশবিক অত্যাচার করল৷ হাজার চেষ্টা করেও রুনি তাদের আটকাতে পারলনা৷ সেই মুহুর্তে বাবা মায়ের আদরের ছোট্ট মেয়ের আর্তনাদ পৌঁছয়নি কারও কানে৷ কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি৷ অন্ধকার তাকে বারবার গ্রাস করেছে৷ শুধু শরীর নয়, তার মন এক নিমেষে হয়েছে ক্ষতবিক্ষত৷ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মিঃ পারফেক্টের অপেক্ষা, বন্ধুদের মুখগুলো, মায়ের বকাঝকা, বাবার ভালোবাসা সব যেন মনে পড়ে যাচ্ছিল রুনির৷ সে কি বেঁচে আছে, নাকি চলে গিয়েছে অনেক দূরে৷



মন্তব্য চালু নেই