‘আতিয়া মহলের’ চারদিকে বিস্ফোরক?

জঙ্গি ধরতে অভিযান চালানো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার পাঁচতলা ‘আতিয়া মহলের’ চারদিকে বিস্ফোরক পেতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভবনের পাশেই গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়েছে। এ কারণে অভিযান শেষ করতে সময় লাগছে।

বিবিসি বাংলাকে এমন তথ্য দিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান। তিনি আরো জানিয়েছেন, ভবনটি থেকে এ পর্যন্ত ৭৮ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। এখন ভেতরে জঙ্গি ছাড়া আর কেউ নেই বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক বিবিসিকে বলেছেন, জঙ্গিদের সংখ্যা ৫/৬ জন হবে বলে তারা অনুমান করছেন। তাদের আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে তারা ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এই বিস্ফোরণের শব্দ বাইরে থেকেও শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকরা।

শনিবার (২৫ মার্চ) সকাল সাতটার দিকে প্যারা-কমান্ডোদের একটি দল ‘আতিয়া মহলে’ সশস্ত্র অভিযান চালায়। সেনাবাহিনী অভিযানটির নাম দিয়েছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। অভিযান চলাকালে হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। এর মধ্যেই বাড়িটির ভেতর থেকে গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গেল বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে কয়েকশ পুলিশ। এলাকাটি সিলেট শহরের ভেতরেই। জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে এই শিববাড়ির অবস্থান। সন্ধ্যের দিকে তাদের অভিযান ঘনীভূত হয় দুটি বাড়িকে ঘিরে। দুটি বাড়ির মালিকই একই ব্যক্তি। তিনি অবশ্য আরো দূরের অন্য একটি বাড়িতে থাকেন। তার কাছ থেকে সংগ্রহ করা ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্র বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারণা করে ‘আতিয়া মহল’ নামের পাঁচ তলা বাড়িটিতে মর্জিনা নামে এক নারীর ভাড়া নেয়া ফ্ল্যাটটিই সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা। জাতীয় পরিচয়পত্রে মর্জিনার স্বামীর নাম মুসা বলে উল্লেখ আছে।

বৃহস্পতিবার সারা রাত এবং শুক্রবার (২৪ মার্চ) সারা দিন ও রাত বাড়িটিকে ঘেরাও করে রাখলেও ভেতরে কোনো অভিযান চালায়নি পুলিশ। অবশেষে শনিবার সকাল থেকে বাড়িটিতে অভিযান শুরু করল সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসের প্যারা-কমান্ডো দল।



মন্তব্য চালু নেই