মেইন ম্যেনু

৪০ ভাগ পুরুষ যৌন রোবট কিনতে চায় : জরিপ

সেক্স টয়, পুতুল বা যৌন রোবটের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে বেঁছে নিচ্ছে ‘যান্ত্রিক মানুষ’ বা ‘পুতুল’।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন ২০৫০ সালের মধ্যে যৌনসঙ্গী হিসেবে রোবটকে বেছে নেওয়ার হার অনেক বেড়ে যাবে। এতে সমাজের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে।

‘কী ধরনের বৈশিষ্ট্যের’ জন্য মানুষ রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বেশি উদ্বুদ্ধ হবে তা খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই জার্মানিতে গবেষণা শুরু হয়েছে। নতুন এ প্রযুক্তিকে এগিয়ে আনতে কারা উৎসাহী তা বের করতেই এই গবেষণা বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘সেক্স উইথ রোবট’ শীর্ষক সম্মেলনে জার্মানির ডুইসবার্গ-এসেন এর গবেষক জেসিকা এম সিজুকা বলেন, “আমি দেখতে চাচ্ছি কেমন ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ যৌন কাজে রোবট ব্যবহারে বেশি উৎসাহী। ”

সিজুকা অধ্যাপক নিকোল ক্র্যামারের সঙ্গে ১৮ থেকে ৬৭ বছর বয়সী ২৬৩ জন বিসমকামী পুরুষের উপর একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করেন।

জরিপে, পুরুষদেরকে বিভিন্ন নারী রোবটের উপর দুই মিনিটের ভিডিও দেখানো হয়। বিভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাদের ‘ব্যক্তিত্ব পরিমাপ’ আর ‘আকর্ষণীয়তা রেটিং’ করা হয়। জরিপে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা কী পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন কোনো রোবট কিনতে ইচ্ছুক কিনা। প্রায় ৪০.৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান তারা ‘কিনতে পারেন’।

যৌন সম্পর্কে রোবট ব্যবহারের প্রবণতা ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। তারা মনে করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক, দাম্পত্য, এমনকি সমগ্র মানবজাতির ওপর পড়বে।

যৌনতায় প্রযুক্তি প্রয়োগের বিষয়ে একজন অগ্রদূত হলেন ড. ট্রুডি বারবার। তিনি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে রোবটের সঙ্গে ভালোবাসা ও যৌনতার বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মানুষের যৌনতার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা রোবটের পক্ষে এখন শুধু সময়েরই ব্যাপার।

তার মতে, দম্পতিরা ভবিষ্যতে নিজেদের মাঝে যৌনতার বিষয়টিকে শুধুই কোনো বিশেষ দিনের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবে। তার বদলে রোবটের সঙ্গে যৌনতা করবে সারা বছর।

একইসঙ্গে রোবটের ব্যবহার সংসার করতে যুবক-যুবতীদের অনাগ্রহী করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সংসার ভেঙে যেতে পারে বলেও মতামত দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে- রোবট ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী আচরণ করবে, কিন্তু রোবটের নিজস্ব কোন চাহিদা থাকবে না। এই কারণে মানুষ সংসারধর্মের বদলে রোবটকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেঁছে নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে। একইসঙ্গে যে কেউ টাকা থাকলেই তার পছন্দের মানুষের আদলে রোবট তৈরি করে নিতে পারবে। বিষয়টি সারাবিশ্বে ঘৃণ্য বলে ধরে নেওয়া হলেও এসব কারণে নতুন প্রজন্ম রোবটে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

রিকি মা নামে হং-কংয়ের এক ব্যক্তি রোবট তৈরির কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারকা স্কারলেট জোহানসনের মতো রোবট তৈরি করেছেন ৩৫ হাজার ডলার ব্যয়ে। এ ধরনের প্রযুক্তি আরও প্রসারিত হলে মানুষ তার মনের মতো তারকাকে বিছানাতেই পেয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে যৌনতার বিষয়গুলো আর আগের মতো থাকবে না।






মন্তব্য চালু নেই