মেইন ম্যেনু

১৫ আগস্টের পরের ইতিহাসের ব্যাখ্যা দিলেন তারেক

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারাই জিয়াউর রহমানকে অপপ্রচারের টার্গেট করেছেন। ইতিহাস বিকৃতি করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম ব্যাংকুয়েটিং হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৫ আগস্টের পরের ইতিহাসের ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা দেন।
১. শেখ মুজিবকে হত্যার পর বাকশাল নেতা মোশতাক রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। গঠন করেন মন্ত্রিসভা। শেখ মুজিব মন্ত্রিসভার প্রায় সকলেই মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ নেয়।
২. মোশতাক সারাদেশে সামরিক আইন জারী করেন। ওই সময় সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ।
৩. জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
৪. শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পর মোশতাক মন্ত্রিসভার শপথে যাননি জিয়াউর রহমান। তবে বিজয়ীর বেশে গিয়েছিলেন তাহের-ইনু বাহিনী এবং তৎকালীন মুজিব বিরোধা নেতারা।
৫. শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পরও অরো কমপক্ষে ১০ দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট পর্যন্ত জেনারেল শফিউল্লাহই ছিলেন সেনাপ্রধান।
৬. রাষ্ট্রদূত হিসেবে মোশতাক সরকার চাকরি কনফার্ম করার পর সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েন। এরপর যথা নিয়মে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ থেকে প্রমোশন পেয়ে ২৫ আগস্ট সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।
৭. সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে রক্ষীবাহিনীর প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেন জিয়াউর রহমান।
৮. জিয়াকে মেনে নিতে পারেননি ব্রিগেডিয়ার রাশেদ মোশাররাফ। তিনি ভেতরে ভেতরে জিয়াউর রহমানকে সরানোর চক্রান্ত শুরু করেন।
৯. চক্রান্তের অংশ হিসেবে রাশেদ মোশাররফ ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখেন।
১০. ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররাফ ৩ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোশতাকের অনুমোদন নিয়ে মেজর জেনারেল হিসেবে নিজেই নিজের প্রমোশন নেন। এরপর প্রশাসন চলে খালেদ মোশাররফের ইশারায়।
১১. ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোশতাক। তার আগে মোশতাক এবং খালেদ মোশাররফ বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন ৬ নভেম্বর। বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মাদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। শেখ মুজিব পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এর দু’দিন পর ১২ জানুয়ারি বিচারপতি সায়েমকে প্রথম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
১২. পনেরো আগস্ট থেকেই মোশতাক-শফিউল্লাহর জারী করা সামরিক আইনে বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি সায়েম একাধারে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকেরও দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে ৭ নভেম্বর সংগঠিত হয় সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। জিয়াকে বের করে আনা হয় বন্দীদশা থেকে। এরমধ্যে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। ৩ নভেম্বর জেলের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয় চার নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। আর ৬ নভেম্বর পাল্টা ক্যু-তে নিহত হন খালেদ মোশাররফ।
১৩. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্র্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম।
১৪. এ সময়কালে জিয়া ছিলেন সেনা প্রধান এবং ডিসিএমএলএ।
১৫. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি সায়েম। এরপর প্রেসিডেন্ট এবং উত্তরাধিকার হিসেবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান।
১৬. ১৯৭৮ সালের ৩ জুন সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন জিয়াউর রহমান।
১৮. ১৯৭৮ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির উপর জনগণের আস্থা আছে কিনা সেটি যাচাইয়ে ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শতকরা ৯৮ দশমিক ৮৮ ভাগ ভোট পড়ে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এইসব ঘটনাবলী প্রমাণ করে জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারী করেননি। ১৫ আগস্ট সামরিক আইন জারী করেন খন্দকার মোশতাক। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি বরং সামরিক আইন প্রত্যাহার করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেননি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেছিল মোশতাক সরকার ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। জিয়াউর রহমান দালাল আইন অধ্যাদেশ বাতিল করেননি। ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করেছেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।’






মন্তব্য চালু নেই