মেইন ম্যেনু

১২ বছরে ৯ জন কোচ বরখাস্ত!

এক মৌসুমে ‘হিরো’ তো আরেক মৌসুমে ‘জিরো’! গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে চারটি শিরোপা জিতিয়েছিলেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালকে ‘লা দেসিমা’ অর্থাৎ দশম শিরোপা এনে দিয়েছিলেন এই ইতালিয়ান কোচ। এ ছাড়া তার অধীনে কোপা দেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল রিয়াল।

কিন্তু এবারের মৌসুমটা ট্রফিহীন কেটেছে রিয়াল মাদ্রিদের। ফলে গত মৌসুমে রিয়ালকে চারটি শিরোপা জেতানো কোচ আনচেলোত্তি ‘হিরো’ থেকে এবার একদম ‘জিরো’ হয়ে গেছেন! তার গত মৌসুমের সব সাফল্য এবার যেন ‘শূন্যে’ মিলিয়ে গেছে। তা না হলে কী চুক্তির এক বছর বাকি থাকতেই আনচেলোত্তিকে বরখাস্ত করে রিয়াল কর্তৃপক্ষ?

সোমবার আনচেলোত্তির সঙ্গে বোর্ড মিটিংয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আনচেলোত্তিকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা বোর্ডের জন্য খুবই কঠিন একটা সিদ্ধান্ত ছিল।’

দুই বছর রিয়ালের কোচের দায়িত্ব পালন করা আনচেলোত্তিকে ক্লাবটির ইতিহাসের অংশ উল্লেখ করে পেরেজ বলেন, ‘কার্লো (আনচেলোত্তি) আমাদের ইতিহাসের অংশ। তিনি আমাদের লা দেসিমা জিতিয়েছেন। দুই বছর ধরে কার্লো আনচেলোত্তির কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাকে বলতে চাই এটা এখনো তার বাড়ি, তার ঘর।’ তবে তার কথাগুলো যে শুধু ‘সান্ত্বনা’র, ‘নিয়ম রক্ষার’, তা আনচেলোত্তি ভালোমতোই জানেন!

আনচেলোত্তিকে বরখাস্ত করার আগে তার পাশে ছিলেন রিয়ালের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আনচেলোত্তিকে আগামী মৌসুমেও চেয়েছিলেন এই পর্তুগিজ তারকা। গত শনিবার মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর রোনালদো টুইট করেছিলেন, ‘দারুণ কোচ এবং অসাধারণ একজন মানুষ। আশা করি আগামী মৌসুমেও আমরা এক সঙ্গে কাজ করব।’

কিন্তু রিয়াল সভাপতি পেরেজ রোনালদোর আশা-আকাঙ্ক্ষা ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। বিদায় করলেন আনচেলোত্তিকে। অবশ্য রিয়ালের কোচদের বরখাস্ত করার ঘটনা পেরেজের জন্য নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে গত ১২ বছরে ৯ জন কোচকে বরখাস্ত করলেন তিনি! ২০০৩ সালে ভিসেন্তে দেল বস্ক থেকে ২০১৫ সালে কার্লো আনচেলোত্তি, মাঝে আরো সাতজন কোচ পেরেজের ‘নিষ্ঠুরতার’ শিকার হয়েছেন!

গত ১২ বছরের রিয়ালের যে ৯ জন কোচ বরখাস্ত হয়েছেন
ভিসেন্তে দেল বস্ক (২৩ জুন, ২০০৩)
কার্লোস কুয়েইরজ (২৪ মে, ২০০৪)
অ্যান্তোনিও ক্যামেচো (২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৪)
ম্যারিনো গ্যারিয়া রেমন (৩০ ডিসেম্বর, ২০০৪)
ভান্দারলেই লুক্সেমবুর্গো (৪ ডিসেম্বর, ২০০৫)
ফ্যাবিও ক্যাপেলো (২৮ জুন, ২০০৭)
বার্ন্ড সুস্টার (৯ ডিসেম্বর, ২০০৮)
ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি (২৬ মে, ২০১০)
কার্লো আনচেলোত্তি (২৫ মে, ২০১৫)

তথ্যসূত্র : মেইল অনলাইন






মন্তব্য চালু নেই