মেইন ম্যেনু

হ্যাপি নায়িকা হলেন যেভাবে ( ভিডিও )

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বপ্নটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। তবে শোবিজের শুরুটা হয়েছিল বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। বলছি আলোচিত চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপির গল্প। সম্প্রতি জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নারী নির্যাতনের মামলা করে সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন এ অভিনেত্রী।

খুলনার মেয়ে হ্যাপি নাজনীন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন নায়িকা হওয়ার। মনে মনে নিজেকে নায়িকা ভাবতেন তিনি। ধর্মভীরু পরিবারের মেয়ে হওয়ায় কিছুটা বাধা আসে তার। সব বাধাকে উপেক্ষা করে নাচ-গান শিখেছেন ছোটবেলা থেকেই।

ছোটবেলার চিত্রনায়িকা হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয় ২০১৩ সালে এসে। চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘কিছু কিছু আশা কিছু ভালোবাসা সিনেমার’ মাধ্যমে। এই সিনেমায় হ্যাপির সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, শাবনূর, ফেরদৌস। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

হ্যাপি বলেন, ‘চিত্রনায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই চলচ্চিত্রে এসেছিলাম। প্রথম সিনেমার পরই বেশ প্রশংসা পেয়েছি। অনেক নির্মাতা আমাকে তাদের সিনেমায় নিতে চেয়েছেন। কিন্তু রুবেলের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি। রুবেল বলেছিল, সিনেমায় কাজ করা তার পছন্দ নয়। তাই সিনেমা থেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিয়েছিলাম।’

হ্যাপি আরও বলেন, ‘প্রথম সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর বদরুল আমীন পরিচালিত ‘রিয়েলম্যান’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয়ের কাজ শেষ করেছি। সিনেমাটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ আছি মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত ‘লাল সবুজের সুর’ নামে একটি সিনেমায়। ‘ভালোবাসতে মন লাগে’ নামের একটি সিনেমার কাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।’

শোবিজে হ্যাপির শুরুটা ছিল বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে। প্রাণ মিস্টার নুডলস, হাইকু এসি, প্রমি আমরোশ, রঙ চানাচুর ও একটি হারবাল ফেসওয়াশের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া তানভীর শাহিনের ‘দু চোখ’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন হ্যাপি।

তবে বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ দেখেই মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ সিনেমায় অভিনয় করতে বলেন হ্যাপিকে। স্বপ্নপূরণ হয় হ্যাপির। ক্যারিয়ারে যখন সম্ভাবনা জেগেছে তখন পরিচয় হয় জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে। এরপর এক বছরের প্রেমের গল্প।

হ্যাপি বলেন, ‘রুবেলকে আমি এতটাই ভালোবেসেছিলাম যে, তার কথায় সিনেমা ছাড়তেও রাজি হয়েছি। সিনেমায় ক্যারিয়ারের সুন্দর একটা সময়ে রুবেলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। আমি চেষ্টা করলে সিনেমাতেই ভালো একটা অবস্থান তৈরি করতে পারতাম। রুবেলকে ভালোবেসে নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবিনি।’

এ দিকে হ্যাপির মামলা নিয়ে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ খোলেননি ক্রিকেটার রুবেল হোসেন। কেউ কেউ বলছেন ক্রিকেটার রুবেলকে বিয়ে করে নিজের ঝলমলে ক্যারিয়ার গড়তে চাইছেন হ্যাপি।

এ বিষয়ে হ্যাপি বলেন, ‘সিনেমাতে অভিনয় করেই আমার ঝলমলে ক্যারিয়ার হতে পারত। আমার যথেষ্ট সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। আমি চেষ্টা করলে চিত্রনায়িকা হিসেবে বেশ ভালোভাবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতাম। প্রথম সিনেমার পরই অনেক নির্মাতা আমাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। রুবেলকে ভালোবেসে সেই মোহ আমি ত্যাগ করেছি। আমার ভালোবাসার মূল্য দেয়নি রুবেল। আমি এখনও চাই সে (রুবেল) ফিরে আসুক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।’

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ঝড় বয়ে গেলেও ক্রিকেটার রুবেল এই বিষয়ে তেমন কোনো বক্তব্যই দেননি। ফলে হ্যাপির পক্ষের বক্তব্য নিয়েই আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।






মন্তব্য চালু নেই