মেইন ম্যেনু

হঠাৎ পতাকামঞ্চে উঠে পড়েন সাঈদীপুত্র

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় সাঈদীপুত্রের উপস্থিতিতে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের বিতর্কিত কর্মসূচিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ জড়িত নয়। গতকাল পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। পতাকা উত্তোলন শেষে ও পায়রা ওড়ানোর সময় পেছন থেকে হঠাৎ করে মাসুদ সাঈদী পতাকামঞ্চে ওঠেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য না দিলেও পুরস্কার বিতরণের সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বেলায়েত হোসেনের পাশে দাঁড়ান এবং পুরস্কার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মাসুদ সাঈদী তার লোকজনকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলান এবং পরে ছবিগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ফেসবুক পেজে দিয়ে তিনি একটি বিতর্কের সৃষ্টি করেন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। মাসুদ সাঈদী পরে এ ধরনের আর কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলে তা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিহত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সমীর কুমার দাস বাচ্চু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সেলিম প্রমুখ। প্রসঙ্গত, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্যারেডে সালাম গ্রহণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে করা যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদীও রয়েছেন। এ সময় বিজয় দিবসের প্যারেডে সালাম গ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান। এ ছবি মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক আইডির টাইম লাইনে পোস্ট দিয়ে মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ছবি ও মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুল হককে ক্লোজ করা হয়। এর এক দিন পর গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে তাদের দায় এড়ানোর চেষ্টা থাকলেও সাঈদীপুত্রের সঙ্গে তাদের যে ছবি সংবাদকর্মীদের কাছে রয়েছে, তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।






মন্তব্য চালু নেই